বন্ধন...
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°শিবাশিস্ আচার্য
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°শিবাশিস্ আচার্য
...অনেক দূরে কতগুলো আলো দেখা যাচ্ছে। রাস্তা দেখা যাচ্ছে জ্যোৎস্নার আলোয়। বেশ বড় একটা চাঁদ আকাশে। আকাশ থেকে জ্যোৎস্না চুঁইয়ে পড়ছে প্রকৃতির শরীর বেয়ে। দু’পাশে গাছ আর গাছ। ঢালের শেষে একটা খাল চলে গেছে এঁকে-বেঁকে। অনেকগুলো পর পর গাড়ির শব্দ নির্জনতা ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। আবার নির্জনতা তৈরি হয়ে যাচ্ছে নিজে থেকেই। এ এক অদ্ভুত খেলা....
সকাল থেকেই দিনটা আজ অন্যরকম। গরম নেই, কিন্তু বাতাসের আর্দ্রতায় ঘেমে অস্থির। ব্যস্ততাও কম ছিল না সারাদিন।ফেরার সময় পকেটে একটা ছোট্ট উপহার....
মনে মনে ভাবতে থাকি আনন্দের আঁকিবুঁকির খেলা তার চোখে-মুখে। দূরে দুটো আলোর বিন্দু দেখা যায়। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, সাথে সাথে শব্দও বড় হতে থাকে প্রচন্ডগতিতে। গাড়িটার চালক মাতাল অথবা অদক্ষ। গাড়িটা কাছে চলে আসে। হেডলাইটের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। শুধু একটা মাত্র কঠিন ধাতব শব্দ শুনি আর সারাশরীরে ভোঁতা যন্ত্রণার অনুভূতি !!....
মনে মনে ভাবতে থাকি আনন্দের আঁকিবুঁকির খেলা তার চোখে-মুখে। দূরে দুটো আলোর বিন্দু দেখা যায়। আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে, সাথে সাথে শব্দও বড় হতে থাকে প্রচন্ডগতিতে। গাড়িটার চালক মাতাল অথবা অদক্ষ। গাড়িটা কাছে চলে আসে। হেডলাইটের আলোয় চোখ ধাঁধিয়ে যায়। শুধু একটা মাত্র কঠিন ধাতব শব্দ শুনি আর সারাশরীরে ভোঁতা যন্ত্রণার অনুভূতি !!....
এমনভাবে পড়েছি, যেন একটা বড় গাছের গুঁড়িতে হেলান দিয়ে বসে আছি আয়েস করে। কতটা গড়িয়ে উল্টেপাল্টে এখানে এসে বসলাম বলতে পারিনা। ডানহাত উল্টে আছে পিঠের নীচে। চোয়ালের একপাশ ভেঙে ঝুলে আছে। গরম রক্তের স্রোত সারা শরীরে। প্রচন্ডশক্তিতে বলতে চাইছি ‘বাঁচাও’, কিন্তু শব্দ সরবরাহ হয়না। মস্তিষ্কের সমস্ত নির্দেশ উপেক্ষা করছে স্নায়ুতন্ত্র। নড়তে সাহায্য করেনা একটুও। নিঃস্পৃহ নীরব নিথর পাথরের মতো পড়ে থাকি অসহ্য যন্ত্রণাকে সহকারী করে । মাথার ভেতর একটানা ঝিমধরা শব্দ। রক্তস্রোত গড়িয়ে যায় ঢাল বেয়ে। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি সামনে...
...মৃত্যুপথযাত্রী। এতবড় রাস্তা থাকতে গাড়িটা আমার উপরেই তুলে দিল। কি গাড়ি ছিল ? গাড়িটা কি থেমেছে ? থামবে না জানি। আমাকে কেউ যদি একটু হাসপাতালে নিয়ে যেত? বাঁচার তীব্রতায় চোখ জ্বলজ্বল করে ওঠে বারবার। দুটো লোক আসতে দেখা যায়। মোবাইলের আলোয় খুঁজতে থাকে আমাকে। অবয়ব বুঝতে পারিনা, এটুকু বুঝতে পারি মানুষ আসছে আমার বাঁচার আশা নিয়ে।
--এইতো এখানে। একেবারে থেঁতলে গেছে। দেখে চালাবি না।
--বেঁচে আছে?
--না মনে হয়।
মোবাইলের আলোয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয় আমি মরে গেছি।
--কি করবি?
--মরে গেছে, চল চলে যাই। ঝামেলায় যাবার দরকার কি?
--কেউ দ্যাখেনি তো?
--না মনে হয়। চল পালাই....
--এইতো এখানে। একেবারে থেঁতলে গেছে। দেখে চালাবি না।
--বেঁচে আছে?
--না মনে হয়।
মোবাইলের আলোয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেয় আমি মরে গেছি।
--কি করবি?
--মরে গেছে, চল চলে যাই। ঝামেলায় যাবার দরকার কি?
--কেউ দ্যাখেনি তো?
--না মনে হয়। চল পালাই....
আরে !! পালাই মানে? আরে !! নাড়িটা একবার পরীক্ষা করে দেখবি না ? এমনি দেখেই বুঝে ফেললি মরে গেছি। গাধা কোথাকার । কোনটা ড্রাইভার ? বেয়াদব, গাড়ি চালাতে জানেনা...মানসজগতে উড়ে বেড়ায় বাক্যগুলো । মূর্ত হয় না ধ্বনিতে...
কায়ার ছায়া সরে যায় দ্রুত। মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে গাড়িটাও চলে যায়। যন্ত্রণা ছাপিয়ে কষ্ট উঠে আসে বুকে। চলে গেল ? হাসপাতালে নেওয়ার বদলে পালিয়ে গেলি কাপুরুষের মতো !! এরা কি মা-নু-ষ ?
যন্ত্রণাবোধ আস্তে আস্তে ক্ষীণ হতে থাকে। আয়ু আর কতক্ষণ? কত মিনিট? কত সেকেন্ড? উথলে ওঠে কণ্ঠ। জল গড়িয়ে যায়। আমার সোনা বোনটা আজ রাখী নিয়ে বসে আছে তার এই হতভাগ্য দাদাটার জন্য । ওর চাওয়া উপহারটা আমার পকেটে। আমার মায়ের কি হবে? নীলাক্ষির....? চোখের জল রক্তে মেশে গড়িয়ে গড়িয়ে...
কায়ার ছায়া সরে যায় দ্রুত। মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে গাড়িটাও চলে যায়। যন্ত্রণা ছাপিয়ে কষ্ট উঠে আসে বুকে। চলে গেল ? হাসপাতালে নেওয়ার বদলে পালিয়ে গেলি কাপুরুষের মতো !! এরা কি মা-নু-ষ ?
যন্ত্রণাবোধ আস্তে আস্তে ক্ষীণ হতে থাকে। আয়ু আর কতক্ষণ? কত মিনিট? কত সেকেন্ড? উথলে ওঠে কণ্ঠ। জল গড়িয়ে যায়। আমার সোনা বোনটা আজ রাখী নিয়ে বসে আছে তার এই হতভাগ্য দাদাটার জন্য । ওর চাওয়া উপহারটা আমার পকেটে। আমার মায়ের কি হবে? নীলাক্ষির....? চোখের জল রক্তে মেশে গড়িয়ে গড়িয়ে...
....গতকাল একটা কবিতা লেখা শুরু করেছিলাম--
"ইতিহাস আজও জানেনা লুপ্ত হবার দুর্ঘটনা;
কে কবে কেঁদেছে?
কার কান্না শুকিয়েছে আমার বুকে?
তার বন্ধনের দাগ লেগে আছে আজও আমার বুকের ভেতর ।"...
হুস-হুস করে বেরিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। কেউ থামে না। প্রাণের আবছায়া নিয়ে ছুটে যাচ্ছে গাড়িগুলো। একটা গাড়ি থামে। বাঁচার আশা নামে । প্রকৃতির ডাকে প্রকৃতির আড়ালে নেমে আসে দুটি নর-নারী। ছোট আলো জ্বেলে নিরাপদ জায়গা খোঁজে। বিধাতার ইশারায় আলো ফেলে আমার উপর। চমকে ওঠে অপ্রস্তুত দুটি মানুষ। আমাকেই প্রশ্ন করে নারী --কখন? কিভাবে? বামহাতের নাড়ী দেখে নর বলে-
--বেঁচে আছে। হাসপাতালে নিতে হবে...
"ইতিহাস আজও জানেনা লুপ্ত হবার দুর্ঘটনা;
কে কবে কেঁদেছে?
কার কান্না শুকিয়েছে আমার বুকে?
তার বন্ধনের দাগ লেগে আছে আজও আমার বুকের ভেতর ।"...
হুস-হুস করে বেরিয়ে যাচ্ছে গাড়ি। কেউ থামে না। প্রাণের আবছায়া নিয়ে ছুটে যাচ্ছে গাড়িগুলো। একটা গাড়ি থামে। বাঁচার আশা নামে । প্রকৃতির ডাকে প্রকৃতির আড়ালে নেমে আসে দুটি নর-নারী। ছোট আলো জ্বেলে নিরাপদ জায়গা খোঁজে। বিধাতার ইশারায় আলো ফেলে আমার উপর। চমকে ওঠে অপ্রস্তুত দুটি মানুষ। আমাকেই প্রশ্ন করে নারী --কখন? কিভাবে? বামহাতের নাড়ী দেখে নর বলে-
--বেঁচে আছে। হাসপাতালে নিতে হবে...
....বিভীষিকার শব্দ তুলে টেনে নিয়ে যায় নারী। কথা হয়, কথা কাটাকাটি হয়। তারপর তাদের সত্ত্বায় সত্ত্বায় ধাক্কা খেয়ে ফিরে যায় বাঁচার আশারা আমায় মৃত্যুর আলিঙ্গনে ফেলে । চোখে অন্ধকার নামে । তলিয়ে যেতে থাকি অন্ধকারের গহীনে...
শুধু শুনতে পাই অভিমানী কিছু শব্দ....
.....
........
"হ্যাপি রাখী দাদা..!! আমার গিফ্ট কই ?"
......
........
--আ--স--ছি -রে- বোন আ--স--ছি....
.....
........
"হ্যাপি রাখী দাদা..!! আমার গিফ্ট কই ?"
......
........
--আ--স--ছি -রে- বোন আ--স--ছি....


কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন