হ্যাকিং
-------শিবাশিস্ আচার্য
-------শিবাশিস্ আচার্য
প্রথম পর্ব :
---------
---------
----উফ্ !! আজ যা খাওয়া-দাওয়া হলো না,ফাটাফাটি !! বৌদিকে গিয়ে বলবি এর জন্য ওনার স্পেশাল গিফ্ট পাওনা রইলো, ইলিশ-পাতুরি আর চিংড়ি মালাইকারী সাথে কাশ্মীরি পোলাও...জাস্ট আনএক্সপেক্টেড্--এক চিমটি জোয়ান-মৌরী মুখে দিয়ে একটা নেভিকাট কিং সাইজ ধরাতে ধরাতে বললো আর্যদা ।
আমিও পেল্লায় এক ঢেঁকুর তুলে বললাম--গেলে না তো বাড়িতে ।তাই মা-ই সব পাঠিয়ে দিলো ।বাড়ীতে গেলে আরো কত আনন্দ করে খাওয়া যেত....
---তাহলে এই নতুন কেসটা সম্বন্ধে আলোচনা করতাম কিভাবে বুদ্ধু ?...
---হ্যাঁ, এবার বলো তো ঘটনাটা কি ?
---আমি-ই কি জানি না কি ? গতকাল রাত দশটা নাগাদ মোবাইলে এ-এই নম্বরটা থেকে ফোন আসে..তো আমি রিসিভ করতেই এক ভারিক্কী গলা ভেসে এলো--নমস্কার আর্য রুদ্র বাবু !! আমি অনিকেত দেববর্মা কথা বলছি । আপনি-ই আর্যবাবু তো?...
আমি সম্মতি জানাতেই ভদ্রলোক আবার বলা শুরু করলেন...আসলে একটা পার্সোনাল প্রবলেম নিয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি ।খুবই কনফিডেন্সিয়াল...তাই কাল যদি একটু আমার বাসাতে আসেন তো খুব বাধিত হবো । ঠিকানাটা হলো-.............
তাই আগামীকাল একসাথে যাবো বলে ডেকেছি !! যাবি তো ?
---যাবো না মানে !!!....
......
.........আমি বিনু...পুরো নাম বিনায়ক ভট্ট। কম্পারেটিভ লিটরেচারে মাস্টার্স করে বিভিন্ন কম্পিটিটিভ এগ্সাম দিচ্ছি । দু'বছর আগে এরিনাতে মাল্টিমিডিয়া কোর্স করার সময় একটি সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত ব্যাপারে হঠাৎ করে আর্যদার সাথে পরিচয় হয়েছিল আমাকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়ে, যা আজ পারিবারিক বন্ধুত্বের রূপ পরিগ্রহ করেছে ।আমার মা'য়ের হাতের রান্না খেতে ভীষণ ভালোবাসে আর্যদা ।বাড়ী বারুইপুরে। ডি.ও.ই.এ.সি.সি. থেকে বি লেভেল কমপ্লিট করে একটা কম্পিউটার ফার্মে চাকরী করতে করতে একঘেয়েমি কাজে বিরক্ত হয়ে চাকরী ছেড়ে আজ ক'মাস বাড়ীতে বসে আছে। ওর চাই একটু ইনোভেটিভ ওয়ার্ক আর এইজন্যই আমি আর্যদার সব কাজেরই ডাই হার্ড ফ্যান....
.....
........মেইন রোড থেকে কিছুটা ভিতরে অনিকেতবাবুর বাড়ি, উনি ফোনে যেমন বলেছিলেন...
দারোয়ানকে আগে থেকেই বোধহয় বলা ছিল। আমরা পরিচয় দিতেই দ্রুত গেট খুলে দিল। শৈল্পিক নক্সার কারুকার্য করা লোহার দরজা পেরিয়ে আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম।
ডেনিশদের ধাঁচে তৈরি করা ম্যাজেন্টা কালারের বেশ বড় আকারের কটেজ বাড়িটা। গেট থেকে বাড়ি পর্যন্ত চওড়া পায়ে হাঁটা পথ মোরাম ঢাকা। পথের দু’ দিকেই অনেক খোলামেলা জায়গা। বাম পাশটা উঁচু-নীচু ঘাসের লন দিয়ে সাজানো। লনের ধার ঘেঁষে একদিকে একটা বকুল গাছ আর অপরদিকে একটা কদম গাছ প্রাকৃতিক শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। কদমগাছের ঠিক নিচে একটা বড়সড় দোলনা ঝুলছে। বাড়িটার মালিক ভদ্রলোক যে যথেষ্ট সুরুচি-সম্পন্ন আর উৎফুল্ল মনের অধিকারী, তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমাদের অনুমানে অবশ্য কিছুটা ঘাটতি পড়ে গিয়েছিল। বাড়ির কর্তা কিছুটা ব্যতিক্রম রুচির ধারকও বটে। পায়ে হাঁটা পথটার অন্য পাশটা ভর্তি যতসব ঔষধি গাছ দিয়ে। অশ্বগন্ধা, বাসক, পিপুল, কালমেঘ, অর্জুন, দাড়িম, ঘৃতকুমারী.... আরো নাম না জানা কত কী !! সবগুলো গাছের গোড়ায় গোবর সার দেওয়া ।
.....
........
এপাশের বাগানটা আবার পার্টিশন করা। পার্টিশনের অন্য ভাগটা দেখে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ !! কয়েক'শো প্রজাতির ক্যাকটাসের সবগুলোই বোধ হয় আছে এখানে। আর দু’চারটার কি সাইজ !! একেবারে মানুষ সমান। ওগুলোর দাম কম করে হলেও টাকায় লাখ দু'য়েক হবে। কতগুলো বিষাক্ত প্রজাতির ক্যাকটাসও চোখে পড়ল। আমার জীবনে কখনো ক্যাকটাসের এত বড় কালেকশন দেখি নি। আর্যদাকেও বেশ খুশি মনে হলো। দাদার ছোটবেলা থেকেই ক্যাকটাসের প্রতি বেশ দুর্বলতা আছে বলে জানি।
....কিন্তু বাগানটা ঠিক সুসজ্জিত নয়....
আমরা বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়েছি।
....
......"বুঝলি রে বিনু, মনে হয় আমরা পারিবারিক কোনো ঝামেলায় জড়াতে যাচ্ছি।"--গম্ভীর-চিন্তিত মুখে বললো আর্যদা....
..."চারদিকে এলোমেলো আর অগোছালো ভাব দেখে বলছো ?"
..."বাঃ !! তোর বুদ্ধিতে তো বেশ পাক ধরছে রে বিনু !!--পিঠ চাপড়ে বলে দাদা।
....
......
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে কলিংবেল বাজাতে একজন মধ্যবয়স্ক লোক এসে দরজা খুলে আমাদের বসিয়ে ভেতরে খবর দিতে গেলো।
...
ড্রয়িং রুমে টানা দশ মিনিট বসে থাকার পর ভদ্রলোক মহোদয় এলেন !! বয়স অনুমান চল্লিশের কাছাকাছি হবে। এতক্ষণ বসিয়ে রাখার জন্য বেশ সৌজন্যতা দেখালেন ও দুঃখপ্রকাশ করলেন। বোধহয় পরখ করতে চাইছেন, ভুল লোককে ডেকেছেন কিনা !! খানিকটা কেশে আমাদের উপর পালাক্রমে দৃষ্টি বোলাতে বোলাতে বললেন, "আপনার কথা আমি আমার এক বন্ধুর মুখে শুনি, আর্যবাবু ।কিন্তু আপনাদের মধ্যে....।"
আর্যদা আমাদের পরিচয় দেবার পর ভদ্রলোক একটু ইতস্ততঃ করে বললেন,"ম্যাটারটা একটু গোপনীয়..."
"আমার মতোই ওকেও আপনি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারেন অনিকেতবাবু"--বেশ দৃঢ়তার সাথে বললো দাদা।
--ও আচ্ছা..আচ্ছা...
--আপনার প্রবলেমের যে লিস্টটা তৈরি করছিলেন এতক্ষণ, সেটা কিন্তু এখন আনতে পারেন...বললো আর্যদা।
প্রথম ধাক্কাতেই ভদ্রলোকের চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে উঠল !! খুব অবাক হয়ে বললেন, "আশ্চর্য !! আমি এতক্ষণ প্রবলেমগুলো সাজিয়ে নিচ্ছিলাম তা বুঝলেন কী করে?"
"সহজ হিসাব, আপনার হাতে এখনো কলমটা ধরেই আছেন।"
তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
"আর ঠিক এই মুহূর্তে, যখন আমাদের আসার কথা, তখন আপনি কলম দিয়ে কি কাজ করবেন তা অনুমান করে নেওয়াই যায়।"
"অদ্ভুত, অদ্ভুত !!"-ভদ্রলোক নীচুস্বরে খানিকটা স্বগতোক্তি করলেন।
এমনসময় ভেতরের ঘর থেকে সেই মাঝবয়সী লোকটি একরাশ খাবার ও চা নিয়ে উপস্থিত হলো।
--এ সব কি করেছেন ? আমি শুধু চা নেবো আর কিচ্ছু না !! তুই কি খাবি, নে?
(খাবার দেখে মুখে জল চলে এলেও)বলে উঠলাম--না!! না!! আমিও ওই চা-ই খাবো !!
মুখে দিয়ে দেখলাম--আহ্ !! আসল দার্জিলিং...
..এই রে!! সিগারেট প্যাকেট টা আনতে ভুলে গেছি !!
..তাতে কি হয়েছে, দাঁড়ান..দয়াময়..! দয়াময়..!!
..আমায় ডাকছেন বাবু !!
..একটু বড় রাস্তায় গিয়ে যে দোকানটা আছে ওখান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো তো !!
..ব্র্যান্ডটা...
..নেভি কাট কিং....
আর্যদা টাকাটা দিতে যেতেই অনিকেতবাবু বলে উঠলেন-এটা করবেন না, প্লীস্ !! আপনারা আমার গেস্ট..
...তবুও নেশার জিনিসটা...!!
...থাক্ না আর্যবাবু !!
আপাতত বাড়ি ফাঁকা। আমরা জাঁকিয়ে বসলাম।
--আচ্ছা এবার বলতে শুরু করুন। কোনো কিছু কিন্তু বাদ দেবেন না...বলতে বলতে আর্যদা আমায় চোখ দিয়ে ইশারা করলো..আমি তো রেডি নোটবুক আর পেন নিয়ে....
আমিও পেল্লায় এক ঢেঁকুর তুলে বললাম--গেলে না তো বাড়িতে ।তাই মা-ই সব পাঠিয়ে দিলো ।বাড়ীতে গেলে আরো কত আনন্দ করে খাওয়া যেত....
---তাহলে এই নতুন কেসটা সম্বন্ধে আলোচনা করতাম কিভাবে বুদ্ধু ?...
---হ্যাঁ, এবার বলো তো ঘটনাটা কি ?
---আমি-ই কি জানি না কি ? গতকাল রাত দশটা নাগাদ মোবাইলে এ-এই নম্বরটা থেকে ফোন আসে..তো আমি রিসিভ করতেই এক ভারিক্কী গলা ভেসে এলো--নমস্কার আর্য রুদ্র বাবু !! আমি অনিকেত দেববর্মা কথা বলছি । আপনি-ই আর্যবাবু তো?...
আমি সম্মতি জানাতেই ভদ্রলোক আবার বলা শুরু করলেন...আসলে একটা পার্সোনাল প্রবলেম নিয়ে আপনার দ্বারস্থ হয়েছি ।খুবই কনফিডেন্সিয়াল...তাই কাল যদি একটু আমার বাসাতে আসেন তো খুব বাধিত হবো । ঠিকানাটা হলো-.............
তাই আগামীকাল একসাথে যাবো বলে ডেকেছি !! যাবি তো ?
---যাবো না মানে !!!....
......
.........আমি বিনু...পুরো নাম বিনায়ক ভট্ট। কম্পারেটিভ লিটরেচারে মাস্টার্স করে বিভিন্ন কম্পিটিটিভ এগ্সাম দিচ্ছি । দু'বছর আগে এরিনাতে মাল্টিমিডিয়া কোর্স করার সময় একটি সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত ব্যাপারে হঠাৎ করে আর্যদার সাথে পরিচয় হয়েছিল আমাকে সাহায্যকারী হিসেবে নিয়ে, যা আজ পারিবারিক বন্ধুত্বের রূপ পরিগ্রহ করেছে ।আমার মা'য়ের হাতের রান্না খেতে ভীষণ ভালোবাসে আর্যদা ।বাড়ী বারুইপুরে। ডি.ও.ই.এ.সি.সি. থেকে বি লেভেল কমপ্লিট করে একটা কম্পিউটার ফার্মে চাকরী করতে করতে একঘেয়েমি কাজে বিরক্ত হয়ে চাকরী ছেড়ে আজ ক'মাস বাড়ীতে বসে আছে। ওর চাই একটু ইনোভেটিভ ওয়ার্ক আর এইজন্যই আমি আর্যদার সব কাজেরই ডাই হার্ড ফ্যান....
.....
........মেইন রোড থেকে কিছুটা ভিতরে অনিকেতবাবুর বাড়ি, উনি ফোনে যেমন বলেছিলেন...
দারোয়ানকে আগে থেকেই বোধহয় বলা ছিল। আমরা পরিচয় দিতেই দ্রুত গেট খুলে দিল। শৈল্পিক নক্সার কারুকার্য করা লোহার দরজা পেরিয়ে আমরা ভেতরে প্রবেশ করলাম।
ডেনিশদের ধাঁচে তৈরি করা ম্যাজেন্টা কালারের বেশ বড় আকারের কটেজ বাড়িটা। গেট থেকে বাড়ি পর্যন্ত চওড়া পায়ে হাঁটা পথ মোরাম ঢাকা। পথের দু’ দিকেই অনেক খোলামেলা জায়গা। বাম পাশটা উঁচু-নীচু ঘাসের লন দিয়ে সাজানো। লনের ধার ঘেঁষে একদিকে একটা বকুল গাছ আর অপরদিকে একটা কদম গাছ প্রাকৃতিক শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। কদমগাছের ঠিক নিচে একটা বড়সড় দোলনা ঝুলছে। বাড়িটার মালিক ভদ্রলোক যে যথেষ্ট সুরুচি-সম্পন্ন আর উৎফুল্ল মনের অধিকারী, তা বোধহয় বলার অপেক্ষা রাখে না।
আমাদের অনুমানে অবশ্য কিছুটা ঘাটতি পড়ে গিয়েছিল। বাড়ির কর্তা কিছুটা ব্যতিক্রম রুচির ধারকও বটে। পায়ে হাঁটা পথটার অন্য পাশটা ভর্তি যতসব ঔষধি গাছ দিয়ে। অশ্বগন্ধা, বাসক, পিপুল, কালমেঘ, অর্জুন, দাড়িম, ঘৃতকুমারী.... আরো নাম না জানা কত কী !! সবগুলো গাছের গোড়ায় গোবর সার দেওয়া ।
.....
........
এপাশের বাগানটা আবার পার্টিশন করা। পার্টিশনের অন্য ভাগটা দেখে তো আমার চক্ষু চড়কগাছ !! কয়েক'শো প্রজাতির ক্যাকটাসের সবগুলোই বোধ হয় আছে এখানে। আর দু’চারটার কি সাইজ !! একেবারে মানুষ সমান। ওগুলোর দাম কম করে হলেও টাকায় লাখ দু'য়েক হবে। কতগুলো বিষাক্ত প্রজাতির ক্যাকটাসও চোখে পড়ল। আমার জীবনে কখনো ক্যাকটাসের এত বড় কালেকশন দেখি নি। আর্যদাকেও বেশ খুশি মনে হলো। দাদার ছোটবেলা থেকেই ক্যাকটাসের প্রতি বেশ দুর্বলতা আছে বলে জানি।
....কিন্তু বাগানটা ঠিক সুসজ্জিত নয়....
আমরা বাড়ির কাছাকাছি এসে পড়েছি।
....
......"বুঝলি রে বিনু, মনে হয় আমরা পারিবারিক কোনো ঝামেলায় জড়াতে যাচ্ছি।"--গম্ভীর-চিন্তিত মুখে বললো আর্যদা....
..."চারদিকে এলোমেলো আর অগোছালো ভাব দেখে বলছো ?"
..."বাঃ !! তোর বুদ্ধিতে তো বেশ পাক ধরছে রে বিনু !!--পিঠ চাপড়ে বলে দাদা।
....
......
বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে কলিংবেল বাজাতে একজন মধ্যবয়স্ক লোক এসে দরজা খুলে আমাদের বসিয়ে ভেতরে খবর দিতে গেলো।
...
ড্রয়িং রুমে টানা দশ মিনিট বসে থাকার পর ভদ্রলোক মহোদয় এলেন !! বয়স অনুমান চল্লিশের কাছাকাছি হবে। এতক্ষণ বসিয়ে রাখার জন্য বেশ সৌজন্যতা দেখালেন ও দুঃখপ্রকাশ করলেন। বোধহয় পরখ করতে চাইছেন, ভুল লোককে ডেকেছেন কিনা !! খানিকটা কেশে আমাদের উপর পালাক্রমে দৃষ্টি বোলাতে বোলাতে বললেন, "আপনার কথা আমি আমার এক বন্ধুর মুখে শুনি, আর্যবাবু ।কিন্তু আপনাদের মধ্যে....।"
আর্যদা আমাদের পরিচয় দেবার পর ভদ্রলোক একটু ইতস্ততঃ করে বললেন,"ম্যাটারটা একটু গোপনীয়..."
"আমার মতোই ওকেও আপনি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করতে পারেন অনিকেতবাবু"--বেশ দৃঢ়তার সাথে বললো দাদা।
--ও আচ্ছা..আচ্ছা...
--আপনার প্রবলেমের যে লিস্টটা তৈরি করছিলেন এতক্ষণ, সেটা কিন্তু এখন আনতে পারেন...বললো আর্যদা।
প্রথম ধাক্কাতেই ভদ্রলোকের চোখেমুখে বিস্ময় ফুটে উঠল !! খুব অবাক হয়ে বললেন, "আশ্চর্য !! আমি এতক্ষণ প্রবলেমগুলো সাজিয়ে নিচ্ছিলাম তা বুঝলেন কী করে?"
"সহজ হিসাব, আপনার হাতে এখনো কলমটা ধরেই আছেন।"
তিনি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন।
"আর ঠিক এই মুহূর্তে, যখন আমাদের আসার কথা, তখন আপনি কলম দিয়ে কি কাজ করবেন তা অনুমান করে নেওয়াই যায়।"
"অদ্ভুত, অদ্ভুত !!"-ভদ্রলোক নীচুস্বরে খানিকটা স্বগতোক্তি করলেন।
এমনসময় ভেতরের ঘর থেকে সেই মাঝবয়সী লোকটি একরাশ খাবার ও চা নিয়ে উপস্থিত হলো।
--এ সব কি করেছেন ? আমি শুধু চা নেবো আর কিচ্ছু না !! তুই কি খাবি, নে?
(খাবার দেখে মুখে জল চলে এলেও)বলে উঠলাম--না!! না!! আমিও ওই চা-ই খাবো !!
মুখে দিয়ে দেখলাম--আহ্ !! আসল দার্জিলিং...
..এই রে!! সিগারেট প্যাকেট টা আনতে ভুলে গেছি !!
..তাতে কি হয়েছে, দাঁড়ান..দয়াময়..! দয়াময়..!!
..আমায় ডাকছেন বাবু !!
..একটু বড় রাস্তায় গিয়ে যে দোকানটা আছে ওখান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে এসো তো !!
..ব্র্যান্ডটা...
..নেভি কাট কিং....
আর্যদা টাকাটা দিতে যেতেই অনিকেতবাবু বলে উঠলেন-এটা করবেন না, প্লীস্ !! আপনারা আমার গেস্ট..
...তবুও নেশার জিনিসটা...!!
...থাক্ না আর্যবাবু !!
আপাতত বাড়ি ফাঁকা। আমরা জাঁকিয়ে বসলাম।
--আচ্ছা এবার বলতে শুরু করুন। কোনো কিছু কিন্তু বাদ দেবেন না...বলতে বলতে আর্যদা আমায় চোখ দিয়ে ইশারা করলো..আমি তো রেডি নোটবুক আর পেন নিয়ে....
--আপনার নাম ?
--অনিকেত দেববর্মা...
--বয়স ?
--উঁ...সাঁইত্রিশ...
--পেশা ?
--পৈতৃক টেক্সটাইল গুডসের ব্যবসা...
--রিটার্নস্ ?
--ওয়ান টু ওয়ান অ্যান্ড হাফ ক্রোড় পার অ্যানাম্...
....বলে কি রে লোকটা !! কাপড় বেচেই কোটিপতি !! তা হবেই বা না কেনো ? রিলায়েন্সও তো একসময় তাই ছিলো....!!
--দেখুন আর্যবাবু আমি ব্যবসায়ী মানুষ, অত বেশি প্যাঁচানো আমার ভালো লাগে না। আমি প্রধান বিষয়গুলো বলব, যা যা দরকার আপনি এরপর জিজ্ঞেস করে জেনে নেবেন-বললেন অনিকেতবাবু।
--আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি বলতে শুরু করুন।
---আমার সমস্যাটা একেবারেই পারিবারিক। আমার..আমার...স্ত্রীকে নিয়ে। সো বুঝতেই পারছেন ব্যাপারটা খুবই সেনসেটিভ। সেই কারণে চারদিক থেকে খুবই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।
এমন সময় দয়াময় ফিরে এলো।তার কাছ থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা নিয়ে আর্যদাকে দিলেন ভদ্রলোক।আর দয়াময়কে বললেন--তোমার তো এদিককার কাজ সব হয়ে গেছে, তুমি তোমার মেয়ের বাড়ী থেকে একটু ঘুরে এসো না এবেলায়। বিকেলের মধ্যেই চলে এসো কিন্তু..
--থাক না বাবু !! মা ও নেই। যদি কোন দরকার..টরকার..
--না, দয়াময় এ ব্যাপারে তোমায় টেনশন করতে হবে না।তুমি সাবধানে ঘুরে এসো...বলে তার হাতে একশো টাকার একটা নোট দিলেন..আর বললেন-জামাইবাড়ি একেবারে খালি হাতে যেও না কেমন !!
লোকটি নমস্কার করে চলে যেতেই দরজা বন্ধ করে এসে বসলেন অনিকেতবাবু।
--হ্যাঁ, কি যেন বলছিলাম..
--গোপনীয়তা...আমি বললাম।
আর্যদা একটা সিগারেট অনিকেতবাবুর দিকে এগিয়ে দিতেই--
--নমস্কার, আমার চলে না...স্যরি....আগে দিনে দু প্যাকেট লাগতো...বানির কথা রাখতে কয়েকবছর হলো সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছি...
আর্যদা সিগারেট টা ধরিয়ে দেশলাই কাঠিটা অ্যাশট্রে তে ফেলতে ফেলতে বললো--এ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, আপনি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
--আমার স্ত্রী সর্বাণী আজ গেছে ওর বাবার ওখানে বেড়াতে। এই সুযোগে আপনাদের ডেকেছি।
--আপনাদের বিয়ে হয়েছে কত বছর ?
--আমরা বিয়ে করেছি ছয় বছর হলো। আমাদের চার বছরের একটা মেয়েও আছে।কিন্তু...বলে একটা ঢোঁক গিললেন অনিকেতবাবু...
--কি হলো ? বলে যান..
--না...মানে...এতদিন কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যাটা শুরু হয়েছে মাস চারেক আগে থেকে। মাস চারেক আগে ওর এক বন্ধু আসে অষ্ট্রেলিয়া থেকে। সমস্যাটা সেখান থেকেই শুরু। ও ওর বন্ধুর ব্যাপারে আমাকে কোনদিন কিচ্ছু জানায় নি। আমি আমার এক ক্লায়েন্ট মারফত খবর পাই যে, ওরা গোপনে কয়েকবার দেখাও করেছে। কথাটা শুনে আমার বিশ্বাস না হওয়ায় আমি নিজে একদিন ওদেরকে ফলো করেছি এবং দেখেছি যে....
.....চুপ করে গেলেন ভদ্রলোক কিছুক্ষণের জন্য..তারপর জলভরা চোখে বললেন--ব্যাপারটা নিদারুণভাবে সত্যি...এবং এরপরও যা জানতে পেরেছি, তা হলো ওরা আমার অগোচরে নিয়মিত মেলামেশাও করছে। আরো মারাত্মক ব্যাপার হলো ওরা নাকি একসাথে অষ্ট্রেলিয়া পাড়ি দেবার পরিকল্পনাও করছে !!...
...বলতে বলতে গলাটা বুজে আসে অনিকেতবাবুর...
....স..র্..বা..ণী.. যাকে আমি প্রাণের চেয়েও ভালোবাসি..সেই কি না..
......
.........চোখের জল আর বাঁধ মানে না ভদ্রলোকের..
......উপচে পড়তে থাকে দু'গাল বেয়ে...
...আমরা দু'জনেই এই ঘটনায় খুব অস্বস্তি বোধ করতে থাকি...
কিছুক্ষণ বাদে অনিকেতবাবুর হুঁশ ফেরে যে, আমরা বাইরের লোক বসে আছি..
তাড়াতাড়ি রুমাল দিয়ে চোখ মুছে একটু হাসার চেষ্টা করলেন..
--আমার কাছে আপনি এ ব্যাপারে কি ধরনের হেল্প চাইছেন...?
--আপনার কাজটা খুব ছোট না হলেও খুব বেশি বড়ও নয়। বুঝতেই পারছেন, আলটিমেটলি আমি ডিভোর্সের খপ্পরে পড়তে যাচ্ছি। যেটা আমার জন্য ভীষণ অপমানজনক। যার সুখের জন্য আমি দিন-রাত পরিশ্রম করে এতদূর এসেছি সে...ই !! মা-বাবা আমার কেউ বেঁচে নেই শুধু সর্বাণী আর ইন্দ্রাণী...আমি জানতে চাই ওরা কতদূর এগিয়েছে !! শুধু এই তথ্যটাই আমাকে উদ্ধার করে দেবেন। যদি বেশিদূর এগিয়ে থাকে, তাহলে সেটা নিশ্চিত হয়ে ওর আগে আমিই ওকে ডিভোর্স দিতে চাই। আমি কি বলতে চাচ্ছি আশা করি বুঝতে পারছেন। পারবেন ব্যাপারটা হাতে নিতে ?
--কিন্তু মেয়ের ব্যাপারে কি করবেন ?
--মেয়ে আমার কাছ-ঘেঁষা।ফিগার-কনসাস্ বানি ওকে তেমন কাছে ঘেঁষতেই দেয়নি কোনদিন।তাই মেয়ে একা একাই বেশি মানুষ হয়েছে।আর আমি মাঝেমাঝে সময় দিতাম পারলে...তাই বলে বানি মা হওয়ার কর্তব্যগুলো ঠিকই রোজ করেছে।কিন্তু তবুও...
--আশা করি বোঝেন বোধহয় যে, কারো মনের খবর বের করাটা অনেক কঠিন কাজ। ওরা মনে মনে কতদূর পরিকল্পনা করে ফেলেছে তা জানা কতটুকু সম্ভব জানি না, তবে আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট... এবার কয়েকটি প্রশ্ন করব, উত্তর দেবেন ?
--হ্যাঁ, নিশ্চয়ই !! বলুন।
--এই দয়াময় লোকটি কতদিন এখানে কাজ করছে ?
--এই দু'বছর হলো..ওকে রাখার জন্যও বানি আমায় বুঝিয়েছিলো..আসলে দয়াময় আমার স্পিনিং মিলেরই কর্মচারী ছিলো..দুবছর আগে দেশের বাড়ীতে অসুস্থ হয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে এক দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে একটি কিডনি খোয়ায়..তারপর সংসারের একমাত্র অবলম্বন মেয়েকে নিয়ে এসে বানির কাছে কেঁদে পড়ে..কারণ,একটি কিডনি নিয়ে সে তখন মিলের কর্মক্ষমতা হারিয়েছে..ওর মেয়েটি যে ছেলেটিকে ভালোবাসতো তাকেই বানির কথায় দয়াময়ের পোস্টে রিক্রুট করি এবং ওদের বিয়ে বানিই দাঁড়িয়ে থেকে দেয়, নিজের গয়না দিয়ে..আর সেই থেকে দয়াময় আমাদের বাড়িতেই থাকে..ফাই-ফরমাশ খাটে..এই হলো ওর ইতিহাস...
--অদ্ভুত !! আশ্চর্য !!
--আপনার মতো ফিলিংস্ও আমার প্রথম হয়েছিলো কিন্তু এখন..না..না..জোরে জোরে মাথা দুদিকে নাড়াতে থাকেন অনিকেত...
--আপনি তো বড় ব্যবসায়ী, স্ত্রীকে কেমন সময় দিতে পারেন ?
--ঠিকই ধরেছেন...আসলে সময় যে খুব বেশি দিতে পারি, তা নয়। বোঝেনই তো ব্যবসায়ের কাজে যথেষ্ট ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে খুব যে কম দিই, তাও না। সপ্তাহে তিন-চার দিন অন্তত আমি ওকে আর মেয়েকে নিয়ে বাইরে ডিনার করি। আর বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমি বিকেলটা প্রায়ই ওর জন্য বরাদ্দ রাখি।
--কিছু যদি মনে না করেন, তবে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি...হেজিটেট্ করে শুধালো আর্যদা..
--বলুন ?
--আপনাদের ম্যারাইটাল লাইফ সম্পর্কে একটু জানতে চাইছি..আর কি...
--মানে ?
--মানে আপনাদের সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ্ কেমন ?...দেখুন...এ ব্যাপারে ইতস্ততঃ করাটা ঠিক হবে না। তথ্যটা খুবই জরুরী। দু’জনেই কি স্যাটিসফায়েড নাকি কোনো পক্ষে অতৃপ্তি আছে ?
ভদ্রলোক তারপরেও খানিকটা ইতস্ততঃ করে তারপর বললেন--না..মানে..আসলে..মানে সেরকম কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের এত সময় পরে তো আসলে এসব সমস্যা তেমন একটা থাকে বলে আমার মনে হয় না।
--আপনার স্ত্রী কী করেন ?
--ওর তো আসলে চাকরির করার দরকার-ই নেই, কিন্তু সময় কাটানোর জন্য একটা এন.জি.ও. সংস্থায় অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে।
--আপনি যেদিন ওদেরকে ফলো করেছিলেন, সেদিন কতটুকু সময় ফলো করেছিলেন, আই মিন পুরো সময় নাকি অল্প কিছু সময় ?
--না, পুরো সময়টাই ফলো করেছি।
--সেদিন কি ওদেরকে কোনো হোটেল বা কোনো আবাসিকে যেতে দেখেছেন ?
--না, সেরকম কোনো জায়গায় যায় নি। শুধু এক সাথে ঘুরেছে আর লাঞ্চ করেছে এক সাথে।
--যদি কিছু মনে না করেন তো জিজ্ঞাসা করছি, সর্বাণী দেবী কোন্ মডেলের মোবাইল সেট ইউজ করেন ?
--না, না মনে করার কি আছে...ও অ্যাপল্ আই-প্যাড্ ব্যবহার করছে এখন।
--উনি নেট ব্যবহার করেন কেমন ?
--ও তো পুরোপুরি নেটিজেন বলতে পারেন। নেট ছাড়া একদম থাকতেই পারে না। দিনের অনেকটা সময় নেট ব্যবহার করে। বাড়ি আর অফিসেও ওয়াই-ফাই রাউটার দিয়ে নেট ইউজ করে ফাস্ট স্পিডের জন্য...আর তাছাড়া ওর প্রফেশনের জন্যেও ওকে অনেকটা সময় নেটে থাকতে হয়।
--আচ্ছা আর আমার কিছু তেমন জানার নেই।ঠিক আছে আজকে আমরা উঠছি। কখন কী করতে হবে আমি আপনাকে ফোনেই জানাব বা জানব।আচ্ছা নমস্কার..চলি..
..আমরা উঠে ফিরতি পথ ধরলাম।
ফেরার সময় ট্যাক্সিতে আর্যদা একটাও কথা বললো না..বুঝলাম ব্যাপারটা নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবছে তাই আর ডিসটার্ব করলাম না...
.....
........
পরদিন দুপুরবেলা।
আর্যদা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে--ঠিক আছে..না আর কিছু না..যা যা বলেছি শুধু সেগুলোই আমাকে মেইল না হলে এস্.এম্.এস্ করে দেবেন।...হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক আছে ঠিক আছে।
আর্যদা ল্যাবে ঢুকে গেল। রাতের আগে অন্তত বের হবে না এটা অনেকটা নিশ্চিত। আপাতত "মস্কা মারকে হাওয়া" খাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই। ফ্রিজটা খুলে একটা "মাউন্টেন ডিউ" নিয়ে আমিও টি.ভি. খুলে বসে পড়লাম...
......
.........
আর্যদার ল্যাবের ঘরটাতে আমি ঢুকতে পেরেছি মাত্র কয়েক বার। ঘিঞ্জি টাইপের একটা ঘর। এক পাশে দু'টো পি.সি.-র এল্.ই.ডি. সেট করা আর একটা ল্যাপটপ। উল্টোপাশের টেবিলে হার্ডওয়্যারের যন্ত্রপাতি। এটা আবার আর্যদার শখের কাজগুলোর একটি। বড় একটা আলমারি। বইয়ের হিসাব নেই, কিন্তু কোনো গল্প বা উপন্যাস খুঁজলে একটাও পাওয়া যাবে না। যত্তোসব তত্ত্বকথার খটমটে বই। বিজ্ঞান, ধর্মশাস্ত্রের বই যেমন আছে, আবার সায়েন্স আর অপরাধ-তত্ত্বের ক্রিমিনোলজি টাইপের বইও অনেক।
আমি একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি, পৃথিবীর এমন কোনো ব্যাপার নেই যেটাতে আর্যদার কোনো আকর্ষণ নেই। এ জন্যই বোধ হয় সব ব্যাপারে আর্যদা এত দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আরেক পাশে বাহারি ডিজাইনের কয়েকটা দাবার বোর্ড। আর্যদার একমাত্র প্রিয় খেলা। দাদা বলে ও নাকি দাবা ছাড়া অন্য কোনো খেলা তেমন জানে না। দাদার কথায়, দাবা খেললে বুদ্ধি বাড়ে না অবশ্য, তবে বাড়ে ব্রেইনের গতি, আর অব্যবহৃত নিউরনগুলো চালু হয়।আর্যদাকে মাঝে মাঝেই দেখেছি সকাল বেলা ব্রাশ করতে করতে দাবার আসরে বসেছে, আর উঠেছে দুপুরের পর। সারা দিন খাওয়া-দাওয়ার কোনো বালাই নেই.....
.......
..........
বিকেলে আমি একবার উঁকি দিলাম দরজার ফাঁক দিয়ে। আর্যদা ফেসবুকের লগ-ইন পেজ খুলে বসে আছে। কিন্তু পেজটার বাম পাশের অংশগুলো নেই কেন? যাহোক আমি আর ওটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না...
......
........ভেবেছিলাম দাদা বোধহয় রাতেই বের হবে। কিন্তু সেই যে ঢুকল আর তো বের হলই না !! আরেক বার আড়াল থেকে দেখে এলাম। ইয়াহুর লগ-ইন পেজ খুলে বসে আছে।..ধুর !! আর কাঁহাতক একা একা বসে থাকা যায়..বাড়ী চলে যাই..
.....
........
--দাদা আমি আসছি আজ !!
--হুঁ, সাবধানে যাস..আর পরশুদিন একবার দেখা করিস তো !! বুঝলাম দাদা ক'দিন একাকীত্ব চাইছে...বেরিয়ে এলাম...
....একটা কাজে ব্যস্ত থাকায় দাদার সাথে দেখা হল চার দিন পর।
--দাদা কতদূর এগুলে ?
--আটকে গেছি রে...
--কীভাবে কি করছো দাদা ? আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না। সেই যে কাকে কি যেন পাঠাতে বলে সেদিন কাজে ডুব দিলে, আজকে এসে বলছ আটকে গেছ। কোন পথে এগোচ্ছ একটু কিছু বলবে কি ?--অভিমান ঝরে পড়ে আমার গলায়..
অভিমানটা আন্দাজ করে দাদা আমার চুলগুলো একটু ঘেঁটে দিয়ে বললো--
--আন্দাজ কর্ তো দেখি ?
--উঁম্, বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এবার মনে হয় ইন্টারনেটকে কাজে লাগাতে যাচ্ছ।তাই তো ?
--কাজে লাগাতে চাইছি কিন্তু কাজ তো হচ্ছে না।
--তাহলে উপায় ?
--একটা উপায় আছে অবশ্য...!! বলতে বলতে দাদা একটা সিগারেট ধরাল। এটা ভোল্টেজ শেষ হবার লক্ষণ। কথা বলতে বলতে যখনই ভোল্টেজ শেষ হয়ে যায় তখনই দাদা একটা সিগারেট ধরাবেই। আর কোনো কথা বলবে না। আরো কিছু জানার আশা বাদ দিয়ে আমি জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে শুরু করলাম। এছাড়া উপায়ই বা কি !!
......
....
.........
--অনিকেত দেববর্মা...
--বয়স ?
--উঁ...সাঁইত্রিশ...
--পেশা ?
--পৈতৃক টেক্সটাইল গুডসের ব্যবসা...
--রিটার্নস্ ?
--ওয়ান টু ওয়ান অ্যান্ড হাফ ক্রোড় পার অ্যানাম্...
....বলে কি রে লোকটা !! কাপড় বেচেই কোটিপতি !! তা হবেই বা না কেনো ? রিলায়েন্সও তো একসময় তাই ছিলো....!!
--দেখুন আর্যবাবু আমি ব্যবসায়ী মানুষ, অত বেশি প্যাঁচানো আমার ভালো লাগে না। আমি প্রধান বিষয়গুলো বলব, যা যা দরকার আপনি এরপর জিজ্ঞেস করে জেনে নেবেন-বললেন অনিকেতবাবু।
--আচ্ছা ঠিক আছে, আপনি বলতে শুরু করুন।
---আমার সমস্যাটা একেবারেই পারিবারিক। আমার..আমার...স্ত্রীকে নিয়ে। সো বুঝতেই পারছেন ব্যাপারটা খুবই সেনসেটিভ। সেই কারণে চারদিক থেকে খুবই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।
এমন সময় দয়াময় ফিরে এলো।তার কাছ থেকে সিগারেটের প্যাকেট টা নিয়ে আর্যদাকে দিলেন ভদ্রলোক।আর দয়াময়কে বললেন--তোমার তো এদিককার কাজ সব হয়ে গেছে, তুমি তোমার মেয়ের বাড়ী থেকে একটু ঘুরে এসো না এবেলায়। বিকেলের মধ্যেই চলে এসো কিন্তু..
--থাক না বাবু !! মা ও নেই। যদি কোন দরকার..টরকার..
--না, দয়াময় এ ব্যাপারে তোমায় টেনশন করতে হবে না।তুমি সাবধানে ঘুরে এসো...বলে তার হাতে একশো টাকার একটা নোট দিলেন..আর বললেন-জামাইবাড়ি একেবারে খালি হাতে যেও না কেমন !!
লোকটি নমস্কার করে চলে যেতেই দরজা বন্ধ করে এসে বসলেন অনিকেতবাবু।
--হ্যাঁ, কি যেন বলছিলাম..
--গোপনীয়তা...আমি বললাম।
আর্যদা একটা সিগারেট অনিকেতবাবুর দিকে এগিয়ে দিতেই--
--নমস্কার, আমার চলে না...স্যরি....আগে দিনে দু প্যাকেট লাগতো...বানির কথা রাখতে কয়েকবছর হলো সম্পূর্ণরূপে ছেড়ে দিয়েছি...
আর্যদা সিগারেট টা ধরিয়ে দেশলাই কাঠিটা অ্যাশট্রে তে ফেলতে ফেলতে বললো--এ নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না, আপনি পুরোপুরি নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
--আমার স্ত্রী সর্বাণী আজ গেছে ওর বাবার ওখানে বেড়াতে। এই সুযোগে আপনাদের ডেকেছি।
--আপনাদের বিয়ে হয়েছে কত বছর ?
--আমরা বিয়ে করেছি ছয় বছর হলো। আমাদের চার বছরের একটা মেয়েও আছে।কিন্তু...বলে একটা ঢোঁক গিললেন অনিকেতবাবু...
--কি হলো ? বলে যান..
--না...মানে...এতদিন কোনো সমস্যা ছিল না। সমস্যাটা শুরু হয়েছে মাস চারেক আগে থেকে। মাস চারেক আগে ওর এক বন্ধু আসে অষ্ট্রেলিয়া থেকে। সমস্যাটা সেখান থেকেই শুরু। ও ওর বন্ধুর ব্যাপারে আমাকে কোনদিন কিচ্ছু জানায় নি। আমি আমার এক ক্লায়েন্ট মারফত খবর পাই যে, ওরা গোপনে কয়েকবার দেখাও করেছে। কথাটা শুনে আমার বিশ্বাস না হওয়ায় আমি নিজে একদিন ওদেরকে ফলো করেছি এবং দেখেছি যে....
.....চুপ করে গেলেন ভদ্রলোক কিছুক্ষণের জন্য..তারপর জলভরা চোখে বললেন--ব্যাপারটা নিদারুণভাবে সত্যি...এবং এরপরও যা জানতে পেরেছি, তা হলো ওরা আমার অগোচরে নিয়মিত মেলামেশাও করছে। আরো মারাত্মক ব্যাপার হলো ওরা নাকি একসাথে অষ্ট্রেলিয়া পাড়ি দেবার পরিকল্পনাও করছে !!...
...বলতে বলতে গলাটা বুজে আসে অনিকেতবাবুর...
....স..র্..বা..ণী.. যাকে আমি প্রাণের চেয়েও ভালোবাসি..সেই কি না..
......
.........চোখের জল আর বাঁধ মানে না ভদ্রলোকের..
......উপচে পড়তে থাকে দু'গাল বেয়ে...
...আমরা দু'জনেই এই ঘটনায় খুব অস্বস্তি বোধ করতে থাকি...
কিছুক্ষণ বাদে অনিকেতবাবুর হুঁশ ফেরে যে, আমরা বাইরের লোক বসে আছি..
তাড়াতাড়ি রুমাল দিয়ে চোখ মুছে একটু হাসার চেষ্টা করলেন..
--আমার কাছে আপনি এ ব্যাপারে কি ধরনের হেল্প চাইছেন...?
--আপনার কাজটা খুব ছোট না হলেও খুব বেশি বড়ও নয়। বুঝতেই পারছেন, আলটিমেটলি আমি ডিভোর্সের খপ্পরে পড়তে যাচ্ছি। যেটা আমার জন্য ভীষণ অপমানজনক। যার সুখের জন্য আমি দিন-রাত পরিশ্রম করে এতদূর এসেছি সে...ই !! মা-বাবা আমার কেউ বেঁচে নেই শুধু সর্বাণী আর ইন্দ্রাণী...আমি জানতে চাই ওরা কতদূর এগিয়েছে !! শুধু এই তথ্যটাই আমাকে উদ্ধার করে দেবেন। যদি বেশিদূর এগিয়ে থাকে, তাহলে সেটা নিশ্চিত হয়ে ওর আগে আমিই ওকে ডিভোর্স দিতে চাই। আমি কি বলতে চাচ্ছি আশা করি বুঝতে পারছেন। পারবেন ব্যাপারটা হাতে নিতে ?
--কিন্তু মেয়ের ব্যাপারে কি করবেন ?
--মেয়ে আমার কাছ-ঘেঁষা।ফিগার-কনসাস্ বানি ওকে তেমন কাছে ঘেঁষতেই দেয়নি কোনদিন।তাই মেয়ে একা একাই বেশি মানুষ হয়েছে।আর আমি মাঝেমাঝে সময় দিতাম পারলে...তাই বলে বানি মা হওয়ার কর্তব্যগুলো ঠিকই রোজ করেছে।কিন্তু তবুও...
--আশা করি বোঝেন বোধহয় যে, কারো মনের খবর বের করাটা অনেক কঠিন কাজ। ওরা মনে মনে কতদূর পরিকল্পনা করে ফেলেছে তা জানা কতটুকু সম্ভব জানি না, তবে আই উইল ট্রাই মাই বেস্ট... এবার কয়েকটি প্রশ্ন করব, উত্তর দেবেন ?
--হ্যাঁ, নিশ্চয়ই !! বলুন।
--এই দয়াময় লোকটি কতদিন এখানে কাজ করছে ?
--এই দু'বছর হলো..ওকে রাখার জন্যও বানি আমায় বুঝিয়েছিলো..আসলে দয়াময় আমার স্পিনিং মিলেরই কর্মচারী ছিলো..দুবছর আগে দেশের বাড়ীতে অসুস্থ হয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে এক দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে একটি কিডনি খোয়ায়..তারপর সংসারের একমাত্র অবলম্বন মেয়েকে নিয়ে এসে বানির কাছে কেঁদে পড়ে..কারণ,একটি কিডনি নিয়ে সে তখন মিলের কর্মক্ষমতা হারিয়েছে..ওর মেয়েটি যে ছেলেটিকে ভালোবাসতো তাকেই বানির কথায় দয়াময়ের পোস্টে রিক্রুট করি এবং ওদের বিয়ে বানিই দাঁড়িয়ে থেকে দেয়, নিজের গয়না দিয়ে..আর সেই থেকে দয়াময় আমাদের বাড়িতেই থাকে..ফাই-ফরমাশ খাটে..এই হলো ওর ইতিহাস...
--অদ্ভুত !! আশ্চর্য !!
--আপনার মতো ফিলিংস্ও আমার প্রথম হয়েছিলো কিন্তু এখন..না..না..জোরে জোরে মাথা দুদিকে নাড়াতে থাকেন অনিকেত...
--আপনি তো বড় ব্যবসায়ী, স্ত্রীকে কেমন সময় দিতে পারেন ?
--ঠিকই ধরেছেন...আসলে সময় যে খুব বেশি দিতে পারি, তা নয়। বোঝেনই তো ব্যবসায়ের কাজে যথেষ্ট ব্যস্ত থাকতে হয়। তবে খুব যে কম দিই, তাও না। সপ্তাহে তিন-চার দিন অন্তত আমি ওকে আর মেয়েকে নিয়ে বাইরে ডিনার করি। আর বাইরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য আমি বিকেলটা প্রায়ই ওর জন্য বরাদ্দ রাখি।
--কিছু যদি মনে না করেন, তবে একটা কথা জিজ্ঞাসা করি...হেজিটেট্ করে শুধালো আর্যদা..
--বলুন ?
--আপনাদের ম্যারাইটাল লাইফ সম্পর্কে একটু জানতে চাইছি..আর কি...
--মানে ?
--মানে আপনাদের সেক্সুয়াল রিলেশনশিপ্ কেমন ?...দেখুন...এ ব্যাপারে ইতস্ততঃ করাটা ঠিক হবে না। তথ্যটা খুবই জরুরী। দু’জনেই কি স্যাটিসফায়েড নাকি কোনো পক্ষে অতৃপ্তি আছে ?
ভদ্রলোক তারপরেও খানিকটা ইতস্ততঃ করে তারপর বললেন--না..মানে..আসলে..মানে সেরকম কোনো সমস্যা নেই। বিয়ের এত সময় পরে তো আসলে এসব সমস্যা তেমন একটা থাকে বলে আমার মনে হয় না।
--আপনার স্ত্রী কী করেন ?
--ওর তো আসলে চাকরির করার দরকার-ই নেই, কিন্তু সময় কাটানোর জন্য একটা এন.জি.ও. সংস্থায় অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছে।
--আপনি যেদিন ওদেরকে ফলো করেছিলেন, সেদিন কতটুকু সময় ফলো করেছিলেন, আই মিন পুরো সময় নাকি অল্প কিছু সময় ?
--না, পুরো সময়টাই ফলো করেছি।
--সেদিন কি ওদেরকে কোনো হোটেল বা কোনো আবাসিকে যেতে দেখেছেন ?
--না, সেরকম কোনো জায়গায় যায় নি। শুধু এক সাথে ঘুরেছে আর লাঞ্চ করেছে এক সাথে।
--যদি কিছু মনে না করেন তো জিজ্ঞাসা করছি, সর্বাণী দেবী কোন্ মডেলের মোবাইল সেট ইউজ করেন ?
--না, না মনে করার কি আছে...ও অ্যাপল্ আই-প্যাড্ ব্যবহার করছে এখন।
--উনি নেট ব্যবহার করেন কেমন ?
--ও তো পুরোপুরি নেটিজেন বলতে পারেন। নেট ছাড়া একদম থাকতেই পারে না। দিনের অনেকটা সময় নেট ব্যবহার করে। বাড়ি আর অফিসেও ওয়াই-ফাই রাউটার দিয়ে নেট ইউজ করে ফাস্ট স্পিডের জন্য...আর তাছাড়া ওর প্রফেশনের জন্যেও ওকে অনেকটা সময় নেটে থাকতে হয়।
--আচ্ছা আর আমার কিছু তেমন জানার নেই।ঠিক আছে আজকে আমরা উঠছি। কখন কী করতে হবে আমি আপনাকে ফোনেই জানাব বা জানব।আচ্ছা নমস্কার..চলি..
..আমরা উঠে ফিরতি পথ ধরলাম।
ফেরার সময় ট্যাক্সিতে আর্যদা একটাও কথা বললো না..বুঝলাম ব্যাপারটা নিয়ে খুব গভীরভাবে ভাবছে তাই আর ডিসটার্ব করলাম না...
.....
........
পরদিন দুপুরবেলা।
আর্যদা কার সাথে যেন ফোনে কথা বলছে--ঠিক আছে..না আর কিছু না..যা যা বলেছি শুধু সেগুলোই আমাকে মেইল না হলে এস্.এম্.এস্ করে দেবেন।...হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক আছে ঠিক আছে।
আর্যদা ল্যাবে ঢুকে গেল। রাতের আগে অন্তত বের হবে না এটা অনেকটা নিশ্চিত। আপাতত "মস্কা মারকে হাওয়া" খাওয়া ছাড়া আমার আর কোনো কাজ নেই। ফ্রিজটা খুলে একটা "মাউন্টেন ডিউ" নিয়ে আমিও টি.ভি. খুলে বসে পড়লাম...
......
.........
আর্যদার ল্যাবের ঘরটাতে আমি ঢুকতে পেরেছি মাত্র কয়েক বার। ঘিঞ্জি টাইপের একটা ঘর। এক পাশে দু'টো পি.সি.-র এল্.ই.ডি. সেট করা আর একটা ল্যাপটপ। উল্টোপাশের টেবিলে হার্ডওয়্যারের যন্ত্রপাতি। এটা আবার আর্যদার শখের কাজগুলোর একটি। বড় একটা আলমারি। বইয়ের হিসাব নেই, কিন্তু কোনো গল্প বা উপন্যাস খুঁজলে একটাও পাওয়া যাবে না। যত্তোসব তত্ত্বকথার খটমটে বই। বিজ্ঞান, ধর্মশাস্ত্রের বই যেমন আছে, আবার সায়েন্স আর অপরাধ-তত্ত্বের ক্রিমিনোলজি টাইপের বইও অনেক।
আমি একটা ব্যাপার লক্ষ্য করেছি, পৃথিবীর এমন কোনো ব্যাপার নেই যেটাতে আর্যদার কোনো আকর্ষণ নেই। এ জন্যই বোধ হয় সব ব্যাপারে আর্যদা এত দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
আরেক পাশে বাহারি ডিজাইনের কয়েকটা দাবার বোর্ড। আর্যদার একমাত্র প্রিয় খেলা। দাদা বলে ও নাকি দাবা ছাড়া অন্য কোনো খেলা তেমন জানে না। দাদার কথায়, দাবা খেললে বুদ্ধি বাড়ে না অবশ্য, তবে বাড়ে ব্রেইনের গতি, আর অব্যবহৃত নিউরনগুলো চালু হয়।আর্যদাকে মাঝে মাঝেই দেখেছি সকাল বেলা ব্রাশ করতে করতে দাবার আসরে বসেছে, আর উঠেছে দুপুরের পর। সারা দিন খাওয়া-দাওয়ার কোনো বালাই নেই.....
.......
..........
বিকেলে আমি একবার উঁকি দিলাম দরজার ফাঁক দিয়ে। আর্যদা ফেসবুকের লগ-ইন পেজ খুলে বসে আছে। কিন্তু পেজটার বাম পাশের অংশগুলো নেই কেন? যাহোক আমি আর ওটা নিয়ে মাথা ঘামালাম না...
......
........ভেবেছিলাম দাদা বোধহয় রাতেই বের হবে। কিন্তু সেই যে ঢুকল আর তো বের হলই না !! আরেক বার আড়াল থেকে দেখে এলাম। ইয়াহুর লগ-ইন পেজ খুলে বসে আছে।..ধুর !! আর কাঁহাতক একা একা বসে থাকা যায়..বাড়ী চলে যাই..
.....
........
--দাদা আমি আসছি আজ !!
--হুঁ, সাবধানে যাস..আর পরশুদিন একবার দেখা করিস তো !! বুঝলাম দাদা ক'দিন একাকীত্ব চাইছে...বেরিয়ে এলাম...
....একটা কাজে ব্যস্ত থাকায় দাদার সাথে দেখা হল চার দিন পর।
--দাদা কতদূর এগুলে ?
--আটকে গেছি রে...
--কীভাবে কি করছো দাদা ? আমার মাথায় তো কিছুই ঢুকছে না। সেই যে কাকে কি যেন পাঠাতে বলে সেদিন কাজে ডুব দিলে, আজকে এসে বলছ আটকে গেছ। কোন পথে এগোচ্ছ একটু কিছু বলবে কি ?--অভিমান ঝরে পড়ে আমার গলায়..
অভিমানটা আন্দাজ করে দাদা আমার চুলগুলো একটু ঘেঁটে দিয়ে বললো--
--আন্দাজ কর্ তো দেখি ?
--উঁম্, বেশি কিছু বলতে পারব না। তবে এবার মনে হয় ইন্টারনেটকে কাজে লাগাতে যাচ্ছ।তাই তো ?
--কাজে লাগাতে চাইছি কিন্তু কাজ তো হচ্ছে না।
--তাহলে উপায় ?
--একটা উপায় আছে অবশ্য...!! বলতে বলতে দাদা একটা সিগারেট ধরাল। এটা ভোল্টেজ শেষ হবার লক্ষণ। কথা বলতে বলতে যখনই ভোল্টেজ শেষ হয়ে যায় তখনই দাদা একটা সিগারেট ধরাবেই। আর কোনো কথা বলবে না। আরো কিছু জানার আশা বাদ দিয়ে আমি জানালা দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখতে শুরু করলাম। এছাড়া উপায়ই বা কি !!
......
....
.........
গতদিনের মতো সেইদিনও বাড়ি ফিরে এলাম...আমায় এখন আর দরকার নেই এই কেসটায় এই ভেবে অভিমানে পরদিন দাদার বাড়িমুখোই হলাম না...তারপর শুরু হল বাঁধভাঙা বৃষ্টি...এক সপ্তাহ ঘরে জলবন্দী...কি জ্বালাতন !!! ছটফট করছি দাদা কি করছে জানার জন্য...জল একটু কমলে গেলাম আর্যদার বাড়িতে...
..যেদিন গেলাম,দেখি দাদা আমার গলার আওয়াজ পেয়ে লাফাতে লাফাতে ল্যাবের ঘর থেকে বের হয়ে এলো। খুশির সময় দাদা একেবারে ছোট মানুষটি হয়ে যায় অবলীলায়।
--পেরেছি রে বিনু, কাজ হয়েছে !! এখন এটাকে কাজে লাগাতে পারলেই হয়।
--তাই নাকি দাদা !! এখন তাহলে ওটা কাজে লাগাবে কীভাবে?
--দাঁড়া, একটা ফোন করি ভদ্রলোককে।
--হ্যালো অনিকেতবাবু...হ্যাঁ, ভালো আছি, আপনার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে ...এখন বলুন আপনার স্ত্রী বই পড়েন কিংবা গান শোনেন কেমন ? ... ই-বুক পড়েন? ...বাঃ...আচ্ছা, অরণ্যের দিনরাত্রি অনেক দিন ধরে খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না ? ... ওয়াও !! তাহলে তো আরো সহজ হয়ে গেল। এটা আমার কাছেই আছে। ...কালকে আমরা আপনার বাসায় আসছি। ...আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা অফিসেই আসব। ...হ্যাঁ, হ্যাঁ তিনটেয়।..আচ্ছা, নমস্কার...
....
......
...মেইন রোড থেকে অনিকেতবাবুর বাড়ী যাওয়ার সময় আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল কেউ বা কারা যেন আমাদের উপর নজর রাখছে । দাদাকে ব্যাপারটা ফিসফিস করে বলতেই ক্যাজুয়াল ভাবে তাকাল আমার দিকে...
..ঠিক তিনটায় পৌঁছে গেলাম ভদ্রলোকের অফিসে। বাড়ীর পিছনদিকেই অফিস ।দাদা ভদ্রলোকের স্ত্রীর জন্য সুন্দর কভারের "অরণ্যের দিনরাত্রি" ই-বুকের সিডি দিলো ভদ্রলোকের হাতে। আর একটু টুকটাক কথাবার্তার পর আমরা বেরিয়ে এলাম..
...মাঝপথে এসেছি, হঠাৎ মাথায় প্রচন্ড একটা আঘাত পেলাম। অজ্ঞান হবার আগে দেখলাম আর্যদা দুটো লোককে ক্যারাটের প্যাঁচে শুইয়ে দিচ্ছে...তারপর আর কিছু মনে নেই। নিজেকে আবিস্কার করলাম হসপিটালের বেডে। পাশে দাদা,মা,বাবা বসে আছে। দাদার বাম বাহুজুড়ে দীর্ঘ ব্যান্ডেজ।
ধীরে ধীরে মনে পড়ল সব। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যেতেই দাদা ইশারায় নিষেধ করলো ।পরদিন একটু ধাতস্থ হবার পর রিলিজ করে দিলো হাসপাতাল থেকে..ট্যাক্সিতে বাড়ী ফেরার সময় দাদাকে বললাম--
--দেখলে তো দাদা ?
--কী ?
--তোমাকে বললাম সে দিন, দেখো কোনো লোক আমাদের ফলো করছে, তুমি কান দিলে না। আজ দেখলে তো !! আমাদেরকে টার্গেট করে ঠিকই মেরে দিলো।
--তোর ধারণা ভদ্রলোকের স্ত্রী লোক লাগিয়ে আমাদেরকে মেরেছে ?
--তাই তো, আবার কী ?
--সোজা-সাপ্টা হিসেব করতে শেখ বিনু, আমাদেরকে যখন ওরা এ্যাটাক্ করেছে তখন আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে এক ঘন্টা আর ভদ্রলোকের অফিসে থেকেছি আধ ঘন্টা। এর মাঝে অনেক বার থেমেছি, অনেক জায়গা পার হয়েছি যেখানে মারলে মারাটা অনেক সহজ হতো। কেউ পিছু নিলে বা টার্গেট করে মারলে এত সময় নেবে না। হিসেব মিলছে না তা বুঝতে পারছিস ?
--হিসেবটা ঠিক আছে, কিন্তু এটা তো তোমার অনুমান।
--উঁহু, আমি খবর নিয়েছি। ওই এলাকায় আমার লোক আছে। ইট ওয়াজ এ মিসটেক। অন্য লোক ভেবে আমাদের মেরেছে।
...অন্ধকার জগতের কিছু লোক যারা সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসেছে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখে দাদা প্রায়ই এটা আজ প্রথম শুনলাম । সব এলাকারই শেল্টার হোল্ডারদের সাথে আর্যদার যোগাযোগ আছে। ভেলকির মত সব খবর পেয়ে যায়।
..হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফেরার সাতদিন বাদে...
..আমি দাদার রুমে ঢুকে দেখলাম দাদা সুন্দর করে একটা সিডির কভার বানাচ্ছে। আমাকে দেখে বলল--
--চল, অনিকেতবাবুর বাড়ি যেতে হবে ।এই সিডিটা ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে... আমার পারিশ্রমিকটা নিয়ে আসব..
--দেন, কেস ইস্ সলভড্ !!!-হতভম্বের মতো বলি আমি...
--চল কাজটা সেরে আসি তারপর গুছিয়ে বসে সব বলবো...
আমি সিডিটার উপর চোখ বোলালাম, তাতে লেখা, "সিডিটা দেখলে আপনার দুশ্চিন্তা কমবে না, কিন্তু এর ভেতরে যা আছে সেগুলো দেখলে আপনার মন অনেক আশ্বস্ত হবে।"
..অনিকেতবাবুরও আমার মতোই দশা হল..
দাদা শুধু বললো--সিডিটা দেখে যা ডিশিসন নেবার নেবেন আর আমাকে ফোনে জানাবেন..আশা করছি আপনার কথামতো অনেকটাই করতে পেরেছি...আচ্ছা আজ আসি...
....
......
--দাদা আমি তো পুরো অন্ধকারেই থাকলাম। কি করলে কীভাবে করলে কিছুই তো বুঝতে দিলে না আমাকে।
--দাঁড়া সব বলছি --সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললো দাদা ...আগে ওদের চ্যাট্ হিস্ট্রিটা দেখে নে।
আমি মনিটরে ওদের চ্যাট্ হিস্ট্রির দিকে চোখ রাখলাম....
....
......অনিমেষ গুছাইত ও সর্বাণী দেবীর ম্যাসেঞ্জার চ্যাট্....
....
......
26/08/2013 সকাল 10:13
-------------------------
--এই যে ম্যাডাম্ বানি হাই !!!
--দাঁড়া, একটু পরে আসছি, তোর সাথে বক্-বক্ করার আগে হাতের কাজটা সেরে নিই...
--আজ কি একটু বের হতে পারবি ? চল্ না একটু ভেসে আসি..
--না আজ বের হতে পারবো না। এত ঘন ঘন ঘুরলে তো ধরা পড়ে যাব। ও মনে হয় কিছু টের পেয়েছে...
--তাই নাকি ?..তো কি হলো ?..
--তুই জানিস না, ও আমাকে নিয়ে ভীষণ জেলাস্ !! ব্যবসায়ী মানুষ তো! অল্পতে অনেক কিছু বুঝে নেয়..
--হুঃ, কত দেখলাম !!
....
.......
14/09/2013 দুপুর 2:38
----------------------
--হ্যাল্লো গুল্লু গুল্লু, কী করিস্ ?
--কী করিস কোন প্রশ্ন হলো না, বল্ কী করছিলিস অথবা কী করছিস !!
--আচ্ছা বাবা আচ্ছা, দুটোরই উত্তর দে..
--কাজ করছিলাম, এখন চ্যাট্ করছি..
--কেমন আছিস্ ?
--ভালো !! তোকে একটা কথা বলি !!
--কি কথা, বল্ ...
--তুই আমাকে বানি বা গুল্লু গুল্লু বলতে পারিস্ না !!
--কেন ? ...কি হল আবার ?
--তোর এটা মনে রাখা দরকার যে আমি তোর প্রেমিকা না, জাস্ট ফ্রেন্ড..আগে যেমন সর্বাণী বলে ডাকতিস তেমনই ডাকবি...
--আচ্ছা ঠিক আছে বাবা, আর বলব না...
--পেরেছি রে বিনু, কাজ হয়েছে !! এখন এটাকে কাজে লাগাতে পারলেই হয়।
--তাই নাকি দাদা !! এখন তাহলে ওটা কাজে লাগাবে কীভাবে?
--দাঁড়া, একটা ফোন করি ভদ্রলোককে।
--হ্যালো অনিকেতবাবু...হ্যাঁ, ভালো আছি, আপনার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে ...এখন বলুন আপনার স্ত্রী বই পড়েন কিংবা গান শোনেন কেমন ? ... ই-বুক পড়েন? ...বাঃ...আচ্ছা, অরণ্যের দিনরাত্রি অনেক দিন ধরে খুঁজছেন, কিন্তু পাচ্ছেন না ? ... ওয়াও !! তাহলে তো আরো সহজ হয়ে গেল। এটা আমার কাছেই আছে। ...কালকে আমরা আপনার বাসায় আসছি। ...আচ্ছা ঠিক আছে, আমরা অফিসেই আসব। ...হ্যাঁ, হ্যাঁ তিনটেয়।..আচ্ছা, নমস্কার...
....
......
...মেইন রোড থেকে অনিকেতবাবুর বাড়ী যাওয়ার সময় আমার কেন যেন মনে হচ্ছিল কেউ বা কারা যেন আমাদের উপর নজর রাখছে । দাদাকে ব্যাপারটা ফিসফিস করে বলতেই ক্যাজুয়াল ভাবে তাকাল আমার দিকে...
..ঠিক তিনটায় পৌঁছে গেলাম ভদ্রলোকের অফিসে। বাড়ীর পিছনদিকেই অফিস ।দাদা ভদ্রলোকের স্ত্রীর জন্য সুন্দর কভারের "অরণ্যের দিনরাত্রি" ই-বুকের সিডি দিলো ভদ্রলোকের হাতে। আর একটু টুকটাক কথাবার্তার পর আমরা বেরিয়ে এলাম..
...মাঝপথে এসেছি, হঠাৎ মাথায় প্রচন্ড একটা আঘাত পেলাম। অজ্ঞান হবার আগে দেখলাম আর্যদা দুটো লোককে ক্যারাটের প্যাঁচে শুইয়ে দিচ্ছে...তারপর আর কিছু মনে নেই। নিজেকে আবিস্কার করলাম হসপিটালের বেডে। পাশে দাদা,মা,বাবা বসে আছে। দাদার বাম বাহুজুড়ে দীর্ঘ ব্যান্ডেজ।
ধীরে ধীরে মনে পড়ল সব। কিছু বলার জন্য মুখ খুলতে যেতেই দাদা ইশারায় নিষেধ করলো ।পরদিন একটু ধাতস্থ হবার পর রিলিজ করে দিলো হাসপাতাল থেকে..ট্যাক্সিতে বাড়ী ফেরার সময় দাদাকে বললাম--
--দেখলে তো দাদা ?
--কী ?
--তোমাকে বললাম সে দিন, দেখো কোনো লোক আমাদের ফলো করছে, তুমি কান দিলে না। আজ দেখলে তো !! আমাদেরকে টার্গেট করে ঠিকই মেরে দিলো।
--তোর ধারণা ভদ্রলোকের স্ত্রী লোক লাগিয়ে আমাদেরকে মেরেছে ?
--তাই তো, আবার কী ?
--সোজা-সাপ্টা হিসেব করতে শেখ বিনু, আমাদেরকে যখন ওরা এ্যাটাক্ করেছে তখন আমরা বাড়ি থেকে বের হয়ে এক ঘন্টা আর ভদ্রলোকের অফিসে থেকেছি আধ ঘন্টা। এর মাঝে অনেক বার থেমেছি, অনেক জায়গা পার হয়েছি যেখানে মারলে মারাটা অনেক সহজ হতো। কেউ পিছু নিলে বা টার্গেট করে মারলে এত সময় নেবে না। হিসেব মিলছে না তা বুঝতে পারছিস ?
--হিসেবটা ঠিক আছে, কিন্তু এটা তো তোমার অনুমান।
--উঁহু, আমি খবর নিয়েছি। ওই এলাকায় আমার লোক আছে। ইট ওয়াজ এ মিসটেক। অন্য লোক ভেবে আমাদের মেরেছে।
...অন্ধকার জগতের কিছু লোক যারা সমাজের মূলস্রোতে ফিরে এসেছে তাদের সাথে যোগাযোগ রাখে দাদা প্রায়ই এটা আজ প্রথম শুনলাম । সব এলাকারই শেল্টার হোল্ডারদের সাথে আর্যদার যোগাযোগ আছে। ভেলকির মত সব খবর পেয়ে যায়।
..হাসপাতাল থেকে বাড়ী ফেরার সাতদিন বাদে...
..আমি দাদার রুমে ঢুকে দেখলাম দাদা সুন্দর করে একটা সিডির কভার বানাচ্ছে। আমাকে দেখে বলল--
--চল, অনিকেতবাবুর বাড়ি যেতে হবে ।এই সিডিটা ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে... আমার পারিশ্রমিকটা নিয়ে আসব..
--দেন, কেস ইস্ সলভড্ !!!-হতভম্বের মতো বলি আমি...
--চল কাজটা সেরে আসি তারপর গুছিয়ে বসে সব বলবো...
আমি সিডিটার উপর চোখ বোলালাম, তাতে লেখা, "সিডিটা দেখলে আপনার দুশ্চিন্তা কমবে না, কিন্তু এর ভেতরে যা আছে সেগুলো দেখলে আপনার মন অনেক আশ্বস্ত হবে।"
..অনিকেতবাবুরও আমার মতোই দশা হল..
দাদা শুধু বললো--সিডিটা দেখে যা ডিশিসন নেবার নেবেন আর আমাকে ফোনে জানাবেন..আশা করছি আপনার কথামতো অনেকটাই করতে পেরেছি...আচ্ছা আজ আসি...
....
......
--দাদা আমি তো পুরো অন্ধকারেই থাকলাম। কি করলে কীভাবে করলে কিছুই তো বুঝতে দিলে না আমাকে।
--দাঁড়া সব বলছি --সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললো দাদা ...আগে ওদের চ্যাট্ হিস্ট্রিটা দেখে নে।
আমি মনিটরে ওদের চ্যাট্ হিস্ট্রির দিকে চোখ রাখলাম....
....
......অনিমেষ গুছাইত ও সর্বাণী দেবীর ম্যাসেঞ্জার চ্যাট্....
....
......
26/08/2013 সকাল 10:13
-------------------------
--এই যে ম্যাডাম্ বানি হাই !!!
--দাঁড়া, একটু পরে আসছি, তোর সাথে বক্-বক্ করার আগে হাতের কাজটা সেরে নিই...
--আজ কি একটু বের হতে পারবি ? চল্ না একটু ভেসে আসি..
--না আজ বের হতে পারবো না। এত ঘন ঘন ঘুরলে তো ধরা পড়ে যাব। ও মনে হয় কিছু টের পেয়েছে...
--তাই নাকি ?..তো কি হলো ?..
--তুই জানিস না, ও আমাকে নিয়ে ভীষণ জেলাস্ !! ব্যবসায়ী মানুষ তো! অল্পতে অনেক কিছু বুঝে নেয়..
--হুঃ, কত দেখলাম !!
....
.......
14/09/2013 দুপুর 2:38
----------------------
--হ্যাল্লো গুল্লু গুল্লু, কী করিস্ ?
--কী করিস কোন প্রশ্ন হলো না, বল্ কী করছিলিস অথবা কী করছিস !!
--আচ্ছা বাবা আচ্ছা, দুটোরই উত্তর দে..
--কাজ করছিলাম, এখন চ্যাট্ করছি..
--কেমন আছিস্ ?
--ভালো !! তোকে একটা কথা বলি !!
--কি কথা, বল্ ...
--তুই আমাকে বানি বা গুল্লু গুল্লু বলতে পারিস্ না !!
--কেন ? ...কি হল আবার ?
--তোর এটা মনে রাখা দরকার যে আমি তোর প্রেমিকা না, জাস্ট ফ্রেন্ড..আগে যেমন সর্বাণী বলে ডাকতিস তেমনই ডাকবি...
--আচ্ছা ঠিক আছে বাবা, আর বলব না...
18/10/2013 দুপুর 1:52
...........................................
--আর মাত্র ক’টা দিন, আমি চলে যাচ্ছি !!
--হুমম্, মিস করবো তোকে..
--চল্ না আমার সাথে..
--কোথায় ?
--অষ্ট্রেলিয়া !!
--তুই কি বলছিস তুই জানিস্ !! আমার একটা মেয়ে আছে..
--ওকে সাথে নিয়ে চল্, আমার কোন প্রবলেম্ নেই..আমি ভিসা রেডি করছি..
--আর স্বামী, সংসার ?
--এগুলো তো ওখানে গিয়েও পাবি !!
--তোকে গতকাল বেড়াতে গিয়েও একই কথা বলেছি..ইউ আর জাস্ট মাই ফ্রেন্ড..আবোল-তাবোল কথা বলবি না, এত দিনের সাজানো সংসার দু'দিনে ভাঙ্গা কি কোনো মানুষের কাজ হতে পারে !!
--তুই ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন ? একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখ !!
--না, ক্ষেপে যাচ্ছি না, তবে তোকেও কিছু কথা জানানো দরকার মনে করছি। তুই জাস্ট আমার বন্ধু, অন্য কিছু না। এটা ভুলে যাস্ কেন বারবার ? তুই আগেও বন্ধু ছিলি এখনো আছিস্, পরেও থাকবি। এর বেশি কিছু চাস না। আর এমন অসংলগ্ন কথা যদি ফারদার তুই বলেছিস তাহলে কিন্তু তোর সাথে আমি সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব..আই হ্যাভ্ এ রেপুটেশন্ !!
......
........
...........
...........................................
--আর মাত্র ক’টা দিন, আমি চলে যাচ্ছি !!
--হুমম্, মিস করবো তোকে..
--চল্ না আমার সাথে..
--কোথায় ?
--অষ্ট্রেলিয়া !!
--তুই কি বলছিস তুই জানিস্ !! আমার একটা মেয়ে আছে..
--ওকে সাথে নিয়ে চল্, আমার কোন প্রবলেম্ নেই..আমি ভিসা রেডি করছি..
--আর স্বামী, সংসার ?
--এগুলো তো ওখানে গিয়েও পাবি !!
--তোকে গতকাল বেড়াতে গিয়েও একই কথা বলেছি..ইউ আর জাস্ট মাই ফ্রেন্ড..আবোল-তাবোল কথা বলবি না, এত দিনের সাজানো সংসার দু'দিনে ভাঙ্গা কি কোনো মানুষের কাজ হতে পারে !!
--তুই ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন ? একটু ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখ !!
--না, ক্ষেপে যাচ্ছি না, তবে তোকেও কিছু কথা জানানো দরকার মনে করছি। তুই জাস্ট আমার বন্ধু, অন্য কিছু না। এটা ভুলে যাস্ কেন বারবার ? তুই আগেও বন্ধু ছিলি এখনো আছিস্, পরেও থাকবি। এর বেশি কিছু চাস না। আর এমন অসংলগ্ন কথা যদি ফারদার তুই বলেছিস তাহলে কিন্তু তোর সাথে আমি সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হব..আই হ্যাভ্ এ রেপুটেশন্ !!
......
........
...........
কনভারসেশন্ গুলো দেখলাম। আলাদাভাবে কিছু বলার দরকার নেই তা বোঝাই যাচ্ছে। এবার দাদা শুরু করল।
--শোন, ভদ্রলোক আমাদের যে কাজ দিয়েছিলেন সেটা মনের খবর বের করে নিয়ে আসার মতো জটিল ব্যাপার। এটা সম্ভব নয় বুঝতেই পারছিস। একটা রাস্তা ছিল। ওদের কথোপকথনের উপর নজর রাখা। আমার কাছে GrabSky আছে। সফট্ওয়্যারটা মোবাইল ফোনে ইন্সটল্ করে দিলেই হলো। ও পুরোপুরি হিডেন থেকে সব কনভারসেশন্ রেকর্ড করে এক ঘন্টা পর পর সার্ভারে আপলোড করবে। ভদ্রলোককে দিয়ে সেটা করেও নিয়েছিলাম। কিন্তু কপাল খারাপ, সার্ভার বন্ধ। পদ্ধতিটা কাজে লাগে নি। তখন তোকে বলেছিলাম আটকে গেছি। বুঝলি ?
--তারপর, তারপর !! তারপরে কী করলে ?
--এরপর আর একটা পথ ছিল। ভদ্রমহিলা যেহেতু নেটিজেন, সুতরাং ফেসবুক আর মেসেঞ্জারে তারা নিশ্চয়ই আলাপ করে থাকবে। কিন্তু সেগুলো পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো এ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক্ করতে হবে। তুই তো জানিস বায়োস্, ইউজার্, এ্যাডমিন্, ফাইল, ফোল্ডার যে কোন পাসওয়ার্ড ব্রেক করা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। কিন্তু সমস্যা হলো আমি অনলাইন হ্যাকিং এ পুরোটাই আনকোড়া। আমি সহজ রাস্তাটাই বেছে নিলাম। ফিশিং করতে শুরু করলাম এ্যাকাউন্টগুলোতে। ফেক লগ-ইন পেজ বানিয়ে এ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের নাম দিয়ে আর হিডেন লিংক দিয়ে সেগুলো পাঠিয়ে দিতে থাকলাম মেইল বক্সে। সেখানেও সমস্যা। এখনকার মেইল ফিল্টারিং সিস্টেম অনেক শক্তিশালী। আর ভদ্রমহিলাও মনে হয় যথেষ্ট সচেতন এসব লিংকের ব্যাপারে। ক্লিক্ই করলো না। পেজ স্ক্রিপ্টগুলো কোনো কাজে এলো না। শেষমেষ আর একটা উপায় বের করা গেল।
--কি দাদা ?
-- "কী লগার।"
-- "কী লগার" আবার কী ?
--কী বোর্ডে কী প্রেসের সব রেকর্ড রাখে। কিন্তু সেটা বানাতে গিয়ে ব্যাপক ঝামেলায় পড়ে গেলাম। কোনো প্রকার ধরা না পড়ে পাসওয়ার্ডগুলো হাতিয়ে নিতে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ঢোকাতে হবে ওটায়।
--যেমন ?
--আমি বলি তুই গুনতে থাক।
--বলো।
--এক - সবগুলো কী প্রেসের রেকর্ড নিতে হবে।...দুই - সেগুলো সার্ভারে আপলোড করবে।...তিন - অন্য একটা ফাইলের সাথে জয়েন করতে হবে।...চার - ওয়ান-ক্লিক্-ইন্সটল্ হতে হবে।...পাঁচ - হিডেন ইন্সটল্ হতে হবে, যাতে যে ফাইলের সাথে জয়েন করা হয়েছে সেটা চালু করা মাত্র এক বারেই ইন্সটল্ হয়ে যায়।...ছয় - ইন্সটল্ হবার সাথে সাথে ষ্টার্ট-আপে স্থান করে নিতে হবে যাতে প্রতিবার কম্পিউটার চালু হবার সাথে সাথেই ওটা চালু হয়।...সাত - এটা প্রোগ্রাম হিসেবে চলা যাবে না, প্রসেস হিসেবে চলতে হবে এবং সিস্টেম প্রসেস। যাতে সহজে বোঝা না যায় যে ওটা চালু আছে।...আট - অবশ্যই অবশ্যই এ্যান্টি-ভাইরাসকে ফাঁকি দিতে হবে। এবং ...এবং ...
...
.......তিন-চার দিন খেটে-খুটে বানিয়ে ফেললাম কী-লগারটা, সেটা ভদ্রমহিলার ল্যাপটপে গেল অরণ্যের দিনরাত্রির সাথে এবং তার রেজাল্ট এই চ্যাট হিস্ট্রিগুলো।
....
......কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম--
--দাদা তুমি কি তবে হ্যাকার হয়ে গেলে ?
--অবশ্যই হ্যাকার, তবে ব্ল্যাকহ্যাট না, হোয়াইট্ হ্যাট বলতে পারিস।
...
.....
আমি মুচকি হাসলাম। নিশ্চিন্ত হলাম। আশা করছি চ্যাট হিস্ট্রিগুলো দেখার পর ভদ্রলোকের ঘর ভাঙ্গার আর সম্ভাবনা থাকবে না।
....
.....
পরের সপ্তাহে অনিকেতবাবু নিজেই দাদাকে ফোন করে দাদার কাছে আসতে চাইলেন..
..দাদা সময় দিলে ভদ্রলোক ও সর্বাণী দেবী দুজনেই দাদার বাড়িতে এলেন...
....আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দেবো মিঃ আর্য !!
--ইট্স মাই প্লেজার ম্যাম্ !!
..অনিকেতবাবু ভেজাচোখে বললেন--বানি আমার কাছে সব কনফেস্ করেছে..আমিই ওকে ভুল বুঝেছিলাম..আর্যবাবু আমাদের তরফ থেকে এই চেকটা আপনার জন্য..দাদা হাতে চেকটা নিলে সংখ্যাটা দেখে মাথা ঘুরে গেলো.....টেন ল্যাক্স..........
...কিন্তু আমার ফিস্ তো....
--বারণ করবেন না আর্যবাবু !! এটা আপনার প্রাপ্য...
--কিন্তু....
--কোন কিন্তু নয়..আমি বানিকে কি বলেছি জানেন--আমাদের আবার এক কে করে দিলো জানো ?
--কে আবার আর্যবাবু ?
--না হলো না !!
--তবে !!
-- "হ্যাকিং".....
--শোন, ভদ্রলোক আমাদের যে কাজ দিয়েছিলেন সেটা মনের খবর বের করে নিয়ে আসার মতো জটিল ব্যাপার। এটা সম্ভব নয় বুঝতেই পারছিস। একটা রাস্তা ছিল। ওদের কথোপকথনের উপর নজর রাখা। আমার কাছে GrabSky আছে। সফট্ওয়্যারটা মোবাইল ফোনে ইন্সটল্ করে দিলেই হলো। ও পুরোপুরি হিডেন থেকে সব কনভারসেশন্ রেকর্ড করে এক ঘন্টা পর পর সার্ভারে আপলোড করবে। ভদ্রলোককে দিয়ে সেটা করেও নিয়েছিলাম। কিন্তু কপাল খারাপ, সার্ভার বন্ধ। পদ্ধতিটা কাজে লাগে নি। তখন তোকে বলেছিলাম আটকে গেছি। বুঝলি ?
--তারপর, তারপর !! তারপরে কী করলে ?
--এরপর আর একটা পথ ছিল। ভদ্রমহিলা যেহেতু নেটিজেন, সুতরাং ফেসবুক আর মেসেঞ্জারে তারা নিশ্চয়ই আলাপ করে থাকবে। কিন্তু সেগুলো পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো এ্যাকাউন্টগুলো হ্যাক্ করতে হবে। তুই তো জানিস বায়োস্, ইউজার্, এ্যাডমিন্, ফাইল, ফোল্ডার যে কোন পাসওয়ার্ড ব্রেক করা আমার কাছে কোনো ব্যাপার না। কিন্তু সমস্যা হলো আমি অনলাইন হ্যাকিং এ পুরোটাই আনকোড়া। আমি সহজ রাস্তাটাই বেছে নিলাম। ফিশিং করতে শুরু করলাম এ্যাকাউন্টগুলোতে। ফেক লগ-ইন পেজ বানিয়ে এ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশনের নাম দিয়ে আর হিডেন লিংক দিয়ে সেগুলো পাঠিয়ে দিতে থাকলাম মেইল বক্সে। সেখানেও সমস্যা। এখনকার মেইল ফিল্টারিং সিস্টেম অনেক শক্তিশালী। আর ভদ্রমহিলাও মনে হয় যথেষ্ট সচেতন এসব লিংকের ব্যাপারে। ক্লিক্ই করলো না। পেজ স্ক্রিপ্টগুলো কোনো কাজে এলো না। শেষমেষ আর একটা উপায় বের করা গেল।
--কি দাদা ?
-- "কী লগার।"
-- "কী লগার" আবার কী ?
--কী বোর্ডে কী প্রেসের সব রেকর্ড রাখে। কিন্তু সেটা বানাতে গিয়ে ব্যাপক ঝামেলায় পড়ে গেলাম। কোনো প্রকার ধরা না পড়ে পাসওয়ার্ডগুলো হাতিয়ে নিতে বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য ঢোকাতে হবে ওটায়।
--যেমন ?
--আমি বলি তুই গুনতে থাক।
--বলো।
--এক - সবগুলো কী প্রেসের রেকর্ড নিতে হবে।...দুই - সেগুলো সার্ভারে আপলোড করবে।...তিন - অন্য একটা ফাইলের সাথে জয়েন করতে হবে।...চার - ওয়ান-ক্লিক্-ইন্সটল্ হতে হবে।...পাঁচ - হিডেন ইন্সটল্ হতে হবে, যাতে যে ফাইলের সাথে জয়েন করা হয়েছে সেটা চালু করা মাত্র এক বারেই ইন্সটল্ হয়ে যায়।...ছয় - ইন্সটল্ হবার সাথে সাথে ষ্টার্ট-আপে স্থান করে নিতে হবে যাতে প্রতিবার কম্পিউটার চালু হবার সাথে সাথেই ওটা চালু হয়।...সাত - এটা প্রোগ্রাম হিসেবে চলা যাবে না, প্রসেস হিসেবে চলতে হবে এবং সিস্টেম প্রসেস। যাতে সহজে বোঝা না যায় যে ওটা চালু আছে।...আট - অবশ্যই অবশ্যই এ্যান্টি-ভাইরাসকে ফাঁকি দিতে হবে। এবং ...এবং ...
...
.......তিন-চার দিন খেটে-খুটে বানিয়ে ফেললাম কী-লগারটা, সেটা ভদ্রমহিলার ল্যাপটপে গেল অরণ্যের দিনরাত্রির সাথে এবং তার রেজাল্ট এই চ্যাট হিস্ট্রিগুলো।
....
......কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললাম--
--দাদা তুমি কি তবে হ্যাকার হয়ে গেলে ?
--অবশ্যই হ্যাকার, তবে ব্ল্যাকহ্যাট না, হোয়াইট্ হ্যাট বলতে পারিস।
...
.....
আমি মুচকি হাসলাম। নিশ্চিন্ত হলাম। আশা করছি চ্যাট হিস্ট্রিগুলো দেখার পর ভদ্রলোকের ঘর ভাঙ্গার আর সম্ভাবনা থাকবে না।
....
.....
পরের সপ্তাহে অনিকেতবাবু নিজেই দাদাকে ফোন করে দাদার কাছে আসতে চাইলেন..
..দাদা সময় দিলে ভদ্রলোক ও সর্বাণী দেবী দুজনেই দাদার বাড়িতে এলেন...
....আপনাকে কি বলে ধন্যবাদ দেবো মিঃ আর্য !!
--ইট্স মাই প্লেজার ম্যাম্ !!
..অনিকেতবাবু ভেজাচোখে বললেন--বানি আমার কাছে সব কনফেস্ করেছে..আমিই ওকে ভুল বুঝেছিলাম..আর্যবাবু আমাদের তরফ থেকে এই চেকটা আপনার জন্য..দাদা হাতে চেকটা নিলে সংখ্যাটা দেখে মাথা ঘুরে গেলো.....টেন ল্যাক্স..........
...কিন্তু আমার ফিস্ তো....
--বারণ করবেন না আর্যবাবু !! এটা আপনার প্রাপ্য...
--কিন্তু....
--কোন কিন্তু নয়..আমি বানিকে কি বলেছি জানেন--আমাদের আবার এক কে করে দিলো জানো ?
--কে আবার আর্যবাবু ?
--না হলো না !!
--তবে !!
-- "হ্যাকিং".....

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন