রবিবার, ১৭ জুলাই, ২০১৬

কখনো মেঘ কখনো রৌদ্র...

কখনো মেঘ কখনো রৌদ্র...
~~~~~~~~~~~~~~~~~স্বপ্নসন্ধানী
আজকাল ঘুণে ধরা মন অকারণেই অস্থির থাকে। সুন্দর পৃথিবীর সব কিছুই অসুন্দর লাগে। ভাল লাগার অনুভূতি কখনো কিঞ্চিতের জন্য ফিরে আসে। আবার মুহুর্তেই চলে যায়। তখন প্রভাত-সুনীলে চোখ রাখলে মনে বেজে উঠে হাজার সুরের অনুরণন-আগত উৎসবের বাদ্যি। যত আঘাত, যত কষ্ট, হৃদয়ের রক্তক্ষরণ, কথার আঘাতের দগদগে ঘা নিমেষেই উড়ে ভোরের সুনীলে মিশে যায়। চোখের আকাশে রঙধনু ওঠে....হাজার রং ছড়িয়ে...বৃষ্টি ঝরে রঙধনু রঙের। বৃষ্টির ফোঁটা সবুজ ঘাসে মুক্তো হয়, আঙ্গুলের ডগায় মুক্তো তুলে নিয়ে কপালে টিপ এঁকে নিই। হলদে প্রজাপতি তিনটি উড়ে বেড়াচ্ছে-ঘুরে বেড়াচ্ছে কাশবনে মনে আমার মিতালী পাতিয়ে। দুটি ঘাসফড়িং উল্লাসে সবুজ ঘাসে উড়ে বেড়াচ্ছে। ভালবাসার পরশ বুলাচ্ছে একে অপরে। লেজ উঁচিয়ে বুলবুলি এ ডাল-ও ডালে, কখনো সবুজ ঘাসের গালিচায় নেমে আবার উড়ে বসছে ডালে। প্রজাপতি, ফড়িং, বুলবুলি সবাই আজ আমার সখি।
শোন, তোমরা প্রতিটি সকালে এমন করেই এসো আমার আঙ্গিনায়, ছড়িয়ে দেব তোমাদের জন্য ভালবাসার শস্যকণা। মুগ্ধ চোখে আনন্দের উঞ্ছবৃত্তি করবো আঁচল ভরে।
আমার রাত কখনো হয় না নির্ঘুম। হতাশা আসে সব দিনের আলোয়। হিসাব বুঝি তাই মেলে না। হিসাব আমি বুঝি না। এত চুলচেরা বিশ্লেষণও করতে পারি না হতাশার। কারণ এসবের সমাধান নেই। ভুলে যাই সব। ভুলে যেতে চাই সব। কখনো দুপুরকে বানাই প্রভাত...প্রভাতের স্নিগ্ধতায় নিজেকে বিলিয়ে দেই। কোন তীক্ষ্ণ আলোর অপেক্ষায় থাকি না। আলো নিজে তৈরী করে নিই মনের মাঝারে....চোখ খোলা রাখি অহর্নিশ...আলো যেন নিভে না যায় কভু। এই মেঘ জমে আমার মনের আকাশে, আবার রৌদ্রের ঝলমলে ছোঁয়ায় মেঘ যায় কেটে। তাই আমি মানসে কাশবনবালিকা হয়ে যাই এই মেঘ এই রৌদ্রের লুকোচুরির পরিবেশে...

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন