বুধবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৬

প্রথম পাপ


প্রথম পাপ
----------------------

স্বপ্নসন্ধানী শিবাশিস্
-------------------------------


মানুষের ভিতরে ভালো কিংবা মন্দ কেউ এক জন বাস করে। দ্বৈত চরিত্রের ধূর্ত অদৃশ্য এক মানব কিংবা দানব। কখনো ভালো কাজে বাঁধা দেয় কখনো খারাপ কাজে। কাজ শেষ হলে আবার উল্টো আচরণ করে। অনৈতিক কোন কাজে উৎসাহ যুগিয়ে বিপদে ফেলে পরে আবার তাচ্ছিল্য করে। ব্যঙ্গ করে। আগুনে তুষ ছিটোয়। জবাকে সে এভাবেই বিপদে ফেলেছে। জবা লড়ে যাচ্ছে তার সাথে। যুক্তি তর্ক করে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করছে।
-স্বামীর সাথে দু'চারটে সত্যি গোপন করা কি খুব অন্যায়?
-হ্যাঁ অন্যায়, একশো ভাগ অন্যায়। জবা উত্তর দেয়।
-ভাব খানা এমন যে এর আগে আর একটাও সত্যি গোপন করিস নি!
-ঠিক তাই,এর আগে আর করিনি। এটাই প্রথম।
-বিয়ের আগে যখন প্রেম করতিস সেটা বলেছিস?
-হ্যাঁ বলেছি।
-তো এখন কি করতে চাস তুই?
-মরতে চাই।
-অন্যায়টা কি তোর কাছে এতই গুরুতর মনে হচ্ছে?
-হ্যাঁ,কাজটা পাপ হয়েছে।
-রাখ তোর পাপ! এমন পাপ সবাই করছে অহরহ!
-আমি কেন করবো?
-তুই কি স্বর্গের অধিবাসিনী? সত্যবাদিনী যুধিষ্ঠিরা?
-আমি তার চাইতেও দামী কিছু। আমি মানুষ। তাই আমার মরা উচিৎ।
রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে জবা নিজের ভিতরের রহস্যময় চরিত্রটির সাথে এভাবেই তর্ক বিতর্ক করছিলো।
সে মরতে চায় অভিমানে নয় অনুতাপে। নিজের কৃতকর্মের শাস্তি। রেল লাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে সিদ্ধান্তটা যখন মোটামুটি পাকা। এর পর যে ট্রেনটা আসবে তার চাকার নিচেই... সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত। এমন সময় তলপেটে একটা তীব্র ব্যথায় হাত দিয়ে চেপে ধরে রেল লাইন থেকে সরে দাঁড়ায় জবা। এতোক্ষণ ধরে ভেবে চিন্তে যুক্তি তর্ক করে নেওয়া সিদ্ধান্ত মুহুর্তেই এলোমেলো হয়ে যায়। পেটে যে তার আরেক জন মানুষের অস্তিত্ব বেড়ে উঠছে। তিন মাস হয়নি এখনো। এই অনাগত সন্তানের বাবা তমাল। তার স্বামী। একে হত্যা করে নিজে মরার বিলাসী ইচ্ছে অন্যায় না শুধু, এ আরেক পাপ। 

পুরো ঘটনাটাই ছিলো আসলে খামখেয়ালী। ছেলেখেলায় এত বড় ভুল হয়ে যাবে তা আসলে জবা বুঝতে পারে নি। এক সময় অন্যের এমন অপকর্মের গল্প শুনে ছি ছি করতো, আর আজ কিনা নিজেই! ছিঃ...! 
স্বামী হিসাবে তমালের তুলনা হয় না। যখন যা চেয়েছে অথবা দরকারে-অদরকারেও উজাড় করে দিয়েছে তাকে ভোগ্যপণ্যের ডালি।এমনকি চার বছরের সংসার জীবনে এক বারও গায়ে হাত তোলেনি। বাজে কথা বলেনি কখনো রাগ হলেও। অভিমানে এক দুই দিন হয়তো কথা কম হয়েছে। তার পর সে আদরে আদরে কড়ায়-গণ্ডায় তা পুষিয়ে দিয়েছে। নিজের প্রতি ক্ষোভটা সেখানেই।
গত বছর দুই ধরে একটু ব্যস্ততা বেড়েছে। সময় কম দেয়। যখন চাকরী করতো তখন ছুটির দিনগুলো কতো আনন্দে কেটেছে। এখন ব্যবসা করে। ছুটির দিন বলে কিছু নেই। কিন্তু সংসারে কি স্বাচ্ছন্দ্য বাড়েনি? একটা ল্যাপটপ খুব শখ ছিলো। পুরোনো হোক তাওতো নিজেদের একটা গাড়ি। ভাড়ায় হোক একটা এ্যাপার্টমেন্টে নিজেদের গোছানো সংসার। তমাল এও বলেছে দু চারটা বছর ধৈর্য্য ধরলে নিজেদের একটা বাড়ী হবে। আর এরই মধ্যে কি না...
এই ল্যাপটপ যন্ত্রটাই সব কিছুর মূল! আরে, শুধু শুধু একে আবার দোষ দিচ্ছি কেন!যেই জল তৃষ্ণা মেটায় সেই জলে লাফিয়ে যদি আমি ডুবে মরি তার জন্য তো আর জল দায়ী না!
ফেসবুকে প্রায় বছর খানেক ধরে "তেপান্তর" নামে যুবকের সাথে পরিচয়। এর নাম আসলেই তেপান্তর কি না জানা নেই জবার। নিশ্চই ছদ্ম নাম। তেপান্তর আবার বাস্তবে মানুষের নাম হয় কি করে। যাই হোক ব্যক্তিগত বার্তায় সকাল দুপুর যোগাযোগে জবার প্রেমে পড়ে যায় ছেলেটি। দুষ্টুমির ছলে জবাও যে এক পা,দু পা এগোয় নি তা নয়। বাসায় একলা সময় কাটে না। মানুষ যখন একলা থাকে মন তখন স্বেচ্ছাচারী। নৈতিক অনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে যায়। তাই বলে শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা এতো দূর গড়াবে! 
ছয় মাস হয়ে গেছে তেপান্তর একটি বার জবাকে মুখোমুখি দেখার জন্য পাগল হয়ে গেছে। জবার স্বামী-সংসার আছে এই কথাটি পর্যন্ত মানতে চাইছে না। একটিবার শুধু দেখবে তার পর বাকী জীবন আর বিরক্ত করবে না জবাকে। জবা মনে মনে নিজেও যে মোহাচ্ছন্ন হয় নি তাও সে বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে না। 

তেপান্তর নিজে গাড়ি চালাচ্ছে। কারো মুখে কথা নেই। জবা যেমনটি ভেবেছিলো, কল্পনায় তেপান্তরের যেমন ছবি এঁকেছিলো বাস্তবে অনেক বেশী আকর্ষণীয়। চোখের ইশারায় যেন দুনিয়া জয় করতে সক্ষম। বয়স ত্রিশ-একত্রিশ। তার পাশে বরং নিজেকে বড় বেশী বেমানান লাগছে। গাড়ি নব্বই থেকে একশ কিলোমিটার গতিতে চলছে। জবা নির্বাক। এইটুকু বলার সাহস হচ্ছে না -আমাকে তো দেখলে এখন নামিয়ে দাও গাড়ি থেকে। কিংবা কোথায় নিয়ে যাচ্ছ আমাকে?
কিছু সময় আসে মানুষ নিজেকে রক্ষার অস্ত্র গুলো ব্যবহার করতে পারে না। শত্রু পক্ষের প্রবল শক্তির সামনে আত্মসমর্পণ তখন একমাত্র পথ। ভিতরের ধূর্ত দানবটি তখন ধরা দিতে ইন্ধন যোগায়। ভুলকে ভুল বলে মনে হয় না। ভুল শুদ্ধের তরল দুটি ভিন্ন রঙ একাকার হয় নীল সরোবরে। মানুষ লাফিয়ে ইচ্ছে মতো সাঁতার কাটে কেউ আবার ডুবে মরে। মরে আনন্দ পায়। এক বার মরে। বার বার মরে। 
গাড়ি শালবনীর বড় রাস্তা থেকে বাম দিকে বনের মধ্যে মোড় নেয়। ইটের সোলিং করা রাস্তায় তিন চার কিলোমিটার পথ । দু পাশে শালবন। একটা লোহার গেটের সামনে গাড়ি থামে। গাড়ির হর্ন বাজার সাথে সাথে গেট অটোমেটিক খুলে যায়।
ভিতরে ঢুকে গাড়ি পার্ক করে ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে পাশের দরজা খুলে হাত বাড়িয়ে দেয় তেপান্তর। জবা রোবটের মতো নিজের হাতটা তুলে দেয় তেপান্তরের হাতে।
জবা মুগ্ধ হয়ে দেখছে চার দিক। এত সুন্দর জায়গা এর আগে দেখেছে বলে মনে করতে পারছে না। এমন সুন্দর জায়গা শুধু মনে মনে কল্পনা করা যায়।
একটা ক্যানেল তার উপরে কাঠের সেতু। তার পর খোলা মাঠ। মাঠে মখমলের মতো সবুজ ঘাস। মাঠের বাম পাশে কংক্রিটের ব্লকে তৈরী পায়ে হাঁটা পথ। পথের দুই পাশে সোনালী দুরন্ত পরিপাটি ছেটে রাখা। শেষ প্রান্তে আড়াই তলা একটি সাহেবী ধাঁচের বাড়ি। জনশূন্য বাড়ী বলে মনে হচ্ছে। মাঠের উত্তরে সবুজে ঘেরা পুকুর। পুকুরের পূর্ব কোণে একটা ঘর উপরে টিনের চাল। ঘরের অর্ধেকটা পুকুরের উপর। দক্ষিণ দিকে বারান্দা। সামনে একটা ছোট্ট জলাধার মাঝখানে ফোয়ারা। পাথরে বাঁধাই করা চার পাশ। ঘরের সামনে লেখা আছে-"বৃষ্টি-বিলাস"।
জবা আড়াই তলা বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গেটে শুধু একজন দারোয়ানের দেখা পেয়েছে। নীচ তলায় তিন চারটি রুম, সামনে বিশাল একটা কাঁচের ঘর পর্দায় ঘেরা। ভিতরে কি আছে দেখা হয় নি। একটা প্যাঁচানো কাঠের সিঁড়ি বেয়ে তেপান্তরের পিছনে পিছনে দোতলায় উঠে গেলো। ডানে বায়ে দুটি ঘর তার পর বিশাল আকারের আরেকটি রুম। চার পাশে ক্যাকটাস অর্কিড আরা দুর্লভ সংগ্রহে পূর্ণ এক সংগ্রহশালা। মাঝখানে বিছানা। এক পাশে ডাইনিং টেবিল। গোটা বিশেক পদের ফল আর রান্না করা নানা খাবারে সাজিয়ে রাখা টেবিল।
দক্ষিন দিকে কাঁচের দেয়াল দেখে বোঝার উপায় নেই তার পর আসলে কি আছে। তেপান্তর জবার হাত ধরে স্লাইডিং ডোর টেনে দেখিয়ে দেয় এটা ওয়াশ রুম।
জবা ভিতরে ঢুকে আরেক বার অবাক হয়। এই ওয়াশ রুমের চাইতে তাদের বেড রুমের সাইজ বেশ অনেকটা ছোট হবে। কি নেই এর মধ্যে!
ফ্রেশ হয়ে বেরোতেই দেখে ডাইনিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে তেপান্তর।যন্ত্রচালিতের মতো কিছু খেয়ে নিয়ে বেডরুমের দিকে তাকে নিয়ে যায় তেপান্তর।
বেডরুমের চারিদিকের দেওয়ালে সমুদ্রের ওয়ালপেপার।আর নীলচে ডিমড্ লাইট জ্বালানো।মিউজিক সিস্টেমে বাজছে বেটোফেনের "প্যাশন অফ মি"।কেমন ঘুম ঘুম পাচ্ছে জবার।আলতো করে কোলে তুলে নিল তেপান্তর।
এর পর জবা আর কিছু মনে করতে চাইছে না। মনে করতে চাইছে যা কিছু ঘটে গেছে সবই ছিলো কল্পনায়। অথচ সব কিছু ঘটে গেছে বাস্তবে, রক্ত মাংসের শরীরে শিরা উপশিরায়... কিন্তু ভিতরের জন্তুটা অত্যন্ত বিশ্রী ভাবে উপহাস করে যাচ্ছে। এখন আবার প্ররোচনা দিচ্ছে লুকিয়ে যেতে, গোপন করতে। এতক্ষণে জবা বুঝে গেছে সে যদি আবার জন্তুটার কথা শোনে তাহলে বার বার তাকে লালসার কাছে হার মানতে হবে। জবা হারতে চায় না বরং মরবে। কিন্তু এখন সে মরতেও পারছে না। মৃত্যুর এতোটা কাছে থেকে ফিরে আসায় এখন ভিতরের পশুটা উপহাস করছে। মরে যাওয়া যেন খুব সহজ ছিলো, বেঁচে থেকে বহুরূপী বদ চরিত্রের সাথে লড়ে জয়ী হওয়া বরং অনেক বেশী কঠিন। 

শালবনীর উত্তরদিকের চার নম্বর সেক্টরের পূর্ব পাশের রেল লাইন। একটা স্লিপার থেকে আরেকটা স্লিপার বেশ লম্বা করে পা ফেলতে হয়। এই কারণেই তল পেটের ব্যথাটা শুরু হতে পারে। এখন রেল লাইন ছেড়ে পাশ দিয়ে হাঁটছে জবা। পাথরের উপর পা ফেলতে ভয় লাগছে। পা পিছলে যেতে পারে। মাথাটাও দুলছে ডানে বাঁয়ে। বাড়ি সাত নম্বর রোড। হেঁটে গেলেও আট দশ মিনিট লাগবে। হেঁটে যাওয়ার মতো শক্তি নেই শরীরে। বাম দিকের গলিটা ঢুকে গেছে সেক্টরে। এখানে সব সময় দু চারটে রিক্সা দাঁড়িয়ে থাকে।এখন টোটোও হয়েছে। একটা টোটোয় উঠে বসে জবা বলে-"সাত নাম্বার রোড"।
বিকেল চারটায় কাজের মেয়েটা আসে। এখন পাঁচটা বাজে। এসে ফিরে গেছে হয়তো। ফাঁকা বাড়ি। দরজা খুলে বাসার ভিতরে ঢুকে ঘরের আসবাবপত্র দরজা জানালার পর্দা টিভি ফ্রিজ সব কিছুকে পর মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে ঘরের এই সব জড় পদার্থ গুলোও ঘৃণার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে জবার দিকে। ক্লান্ত শরীরে চার হাত পা ছড়িয়ে বিছানায় শুয়ে সাথে সাথে ঘুম নেমে আসে চোখে। 

কদিন ধরে জবার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। বেশী রাত না করে একটু আগেই চলে আসে তমাল। শরীর ভালো থাকলে এই অসময়ে ঘুমোতো না। অন্যমনস্ক লাগছে কিছু দিন ধরে। সংসারে নিজের অমনোযোগ এর জন্য দায়ী বলে মনে করছে তমাল।
বেল চেপে ঘুম ভাঙাতে হয় সে জন্যই একটা চাবি রেখেছে নিজের কাছে। বাসায় এসে স্নানটা সেরে বিছানায় ঘুমন্ত জবার পাশে বসে। ঘুমিয়ে থাকলে জবার মুখটা শিশুর মতো লাগে দেখতে। মাথায় হাত রেখে চুলে আঙ্গুল চালাতেই চোখ খোলে জবা। তমালকে দেখে চমকে উঠে। কিছুটা ভয় পায়। বার বার তেপান্তরের শরীরের শক্ত পেশীগুলো মনে ভেসে উঠে।
বিকেলে ডক্টর অরুণ চক্রবর্তী এসেছিলেন,ঘুমোচ্ছিলে তখন- তমাল বলে।
জবা কি উত্তর দেবে কিছুই মনে করতে পারছে না। ডক্টর কখন এসেছিলেন!
তমাল উত্তরের অপেক্ষায় না করেই বলে-ডক্টর  বলেছেন ভয়ের কিছু নেই। ক'দিনের জন্য কাছাকাছি কোথাও ঘুরে আসতে পরামর্শ দিলেন। ওঠো হাত মুখ ধুয়ে খেয়ে নাও। আর ব্যাগ গুছিয়ে নাও। সাত দিনের জন্য আমরা মন্দারমণি-তাজপুর-দীঘা যাচ্ছি। কাল সকালে বেরোবো দশটায়।
ব্যাগগুলো জবার বালিশের পাশে রেখে মুখ নীচু করে একটা চুমু দিয়ে আবার বলে - ওঠো।
জবা তেপান্তরের বনের বাংলোটার কথা ভুলতে পারছে না। কিছুতেই মন থেকে দূর করতে পারছে না সব কিছু। ঘটনার সত্যি মিথ্যে নিয়ে জবাব দিতে হয় মানুষের কাছে। নিজের পাপবোধের জবাব দিতে হয় নিজেকেই। এ আরো বেশী বিব্রতকর।
এতোক্ষণ জবা ভেবেছে অন্য কিছু কিন্তু অপলক চেয়েছিলো তমালের দিকে। তমাল বুঝতে পারে জবা মনে মনে একটু সাহায্য আশা করছে। দু'হাতে ধরে তুলে বসিয়ে দেয় বিছানায়। দুই ফোঁটা জল জবার গাল বেয়ে গড়িয়ে পরে।
হেসে তমাল আরেকটা চুমু দিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরে বলে-ছিঃ! কেঁদো না।এখন থেকে দিনের সিংহভাগটাই কাটাবো তোমার সাথে মুনা।

রাতে ব্যাগ গুছিয়ে ল্যাপটপ অন করে জবা। অনলাইনে বসে একবার সিদ্ধান্ত নেয় তেপান্তরকে ফেসবুকে ব্লক করবে। সিদ্ধান্ত পাল্টে সে জবা রায় নামে ফেসবুক আই ডি স্থায়ী ভাবে বন্ধ করে দেয়। তমাল তাকে মুনা নামে ডাকে। নতুন আই ডি ওপেন করে। নাম দেয় তমালী-মুনা। এখানে একমাত্র বন্ধু থাকবে তমাল। তার আর ভার্চুয়াল বন্ধুর কোনো প্রয়োজন নেই। ভার্চুয়াল বন্ধু স্বেচ্ছাচারী মনের গোপন দরজায় অসময়ে টোকা দেয়। টার্ন অফ করে ল্যাপটপ লাগেজে ঢোকাতে যাবার সময় বাম হাতের ইনজেকশনের ব্যথাটা টনটন করে ওঠে । বিকেলে ডক্টর অরুণ তাহলে ঘুমের ইনজেকশন দিতেই এসেছিলেন....

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন