আসবেই...
--------------
স্বপ্নসন্ধানী শিবাশিস্
------------------------------
--------------
স্বপ্নসন্ধানী শিবাশিস্
------------------------------
বারো নম্বর প্ল্যাটফর্মের পূর্ব পাশের সবুজ রঙ করা ওভারহেড ট্যাঙ্ক থেকে দিন রাত উপচে জল পড়ছেই। মফিজ অপলক তাকিয়ে থাকে উপচে পড়া জলের দিকে। ড্রেন দিয়ে বয়ে যাচ্ছে টলমলে স্বচ্ছ জল। খড়গপুর জংশনের সরকারী জল। একের পর এক ট্রেন আসছে। প্রয়োজনে জল ভরে নিচ্ছে। তাই কখনও জলের ট্যাঙ্ক যাতে খালি না হয়ে যায় সেদিকে কর্তৃপক্ষ সজাগ। কিন্তু জল যে অপচয় হচ্ছে সেদিকে কারও খেয়ালই নেই।
এক-একটা দূরপাল্লার ট্রেন এসে থামছে আর রুটি-কলা-চা-পুরি-কফি ইত্যাদি বিক্রেতারা ছুটে যাচ্ছে জানালার কাছে। পিছনে আরেকজন বিক্রেতা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে -পানি বটল্, পানি বটল্... জানালায় হাত বাড়ানো যাত্রীর হাতে জলের বোতল তুলে দিয়ে তার দাম পকেটে ঢুকিয়ে ছুটে চলে অন্য আরেক ক্রেতার জানালায়।
জল উপচে পড়া আর বোতলে জল বিক্রি করা, মফিজ এই দুটি দৃশ্য খুব উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে দেখে। কিছুক্ষণ পর পর নিজের অজান্তেই চিৎকার করে বলে উঠে -"হায় পানি!"
এক-একটা দূরপাল্লার ট্রেন এসে থামছে আর রুটি-কলা-চা-পুরি-কফি ইত্যাদি বিক্রেতারা ছুটে যাচ্ছে জানালার কাছে। পিছনে আরেকজন বিক্রেতা হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে -পানি বটল্, পানি বটল্... জানালায় হাত বাড়ানো যাত্রীর হাতে জলের বোতল তুলে দিয়ে তার দাম পকেটে ঢুকিয়ে ছুটে চলে অন্য আরেক ক্রেতার জানালায়।
জল উপচে পড়া আর বোতলে জল বিক্রি করা, মফিজ এই দুটি দৃশ্য খুব উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে দেখে। কিছুক্ষণ পর পর নিজের অজান্তেই চিৎকার করে বলে উঠে -"হায় পানি!"
স্টেশনে পুরোনো দোকানদারেরা তার এই "পানির" গল্প অনেকেই জানে। স্টেশনে মফিজ "পানি পাগল" হিসেবে পরিচিত। একুশ বছর ধরে এই স্টেশনে আছে "পানি পাগল মফিজ"। বৃষ্টি নামলে সে খালি গায়ে সারাক্ষণ ভেজে যতক্ষণ না বৃষ্টি থামে। কেউ কেউ তাকে বৃষ্টিতেও ভিজে চিৎকার করে কাঁদতে শুনেছে। তখন তার চোখের জল বৃষ্টি এসে সযত্নে ধুইয়ে দিয়ে যায়।
খুব ভোরে মফিজ পিঠে একটা ছেঁড়া প্লাস্টিকের বস্তা নিয়ে শহরের পথে বের হয়। পথে পরে থাকা কাগজ, জল আর কোমল পানীয়র খালি প্লাস্টিকের বোতল কুড়িয়ে মোড়ের ভাঙাচোরার দোকানে বিক্রি করে কোন দিন পঞ্চাশ,কোন দিন আবার আশি-নব্বই টাকা পায়। তাতেই তার দিন চলে যায়।
লালমোহন স্টেশনের পুরনো দোকানদার। আগে বই-পত্রিকার দোকান ছিলো। মানুষ আগে স্টেশন থেকে প্রচুর বই কিনতো। শরৎ চন্দ্রের ছবি সহ শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, শেষ প্রশ্ন,রবি ঠাকুরেরও বই থাকতো।এই বই গুলো সামনের সারিতে সাজানো থাকতো। আরও থাকতো ভৈরব গঙ্গোপাধ্যায়,অগ্রদূতের নাটকের বই। শীত শুরুর আগেই গ্রামের হাট-বাজারে, শহরের পাড়া-মহল্লায় ক্লাব ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আয়োজনে যুবক থেকে বৃদ্ধ নাটকের মহড়ায় মেতে উঠতো। প্রচুর নাটকের বইও বিক্রি হতো তখন।
এখন আগের মতো বই বেচাকেনা হয় না। তাই লালমোহন এখন চা-জলখাবারের দোকান দিয়েছে। দিন রাত চব্বিশ ঘন্টাই চলে দোকান।সাথে তার পরিবার সাহায্য করে। লালমোহন এখন চা-বিস্কুট-কেক-লাড্ডু-পান-কলা- রুটি-(সিগারেট-বিড়ি লুকিয়ে) এই সব বিক্রি করে। দিনে দুই-চার বার মফিজ দোকানের চারপাশ ঝাঁট দেয়। বিনিময়ে মফিজকে চা-জলখাবার-দুবেলা ভাত খেতে দেয় লালমোহন। অবশ্য বিনা পয়সায় কোনদিনই মফিজ খায়নি তার কাছ থেকে।লালমোহন কত বারণ করেছে,তবুও প্রতিদিন তাকে পঞ্চাশ টাকা মফিজ দেবেই দেবে।রাতে দোকানের এক পাশেই একটা চটের বস্তা পেতে ঘুমোয় সে।লালমোহন তাকে একটা পুরোনো চাদর দিয়েছে।সেটাই গায়ে দিয়ে ঘুমোয় সে।
২
খড়গপুর বামাচরণ বিদ্যাপীঠের সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক স্বপ্নিল ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো বোঝে না। তার সহকর্মী অনেকেই টিউশনি করে ভালো রোজগার করছে। তার কাছে এই কাজ অনৈতিক মনে হলেও, অনেকেই "পলিটিক্যালি কারেক্ট" মনে করে তা করছে।অনেকেই একে আবার "চাটাই ব্যবসা","রোজকারের লক্ষ্মীপুজো" ইত্যাদি নানাবিধ অভিধায় ভূষিত করে থাকে।
মাস শেষে বেতনের টাকা থেকে বাড়ির লোন,এলআইসি,প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড ইত্যাদি দেওয়ার পর যা থাকে তাতে চাল-ডাল-মাছ-সব্জিপাতির যোগান দিতে দিতেই শেষ। সেখান থেকে কাটছাঁট করে প্রতি মাসে বৃদ্ধা মায়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে হয়।
স্বপ্নিলের সোয়া চার বয়সের বাচ্চা নয়নের ইদানীং মাছ-মাংসের প্রচুর চাহিদা। যোগান না দিতে পারলে বাবা হিসেবে তার মনে খুব কষ্ট হয়। নভেম্বর মাস শুরু হয়েছে, সামনেই পরীক্ষা। এই বয়সে আর কিছু তেমন না পারুক একটু খাঁটি দুধ খেতে দেওয়া খুবই দরকার।কিন্তু গরুর খাঁটি দুধ তো এখন প্রায় আর শহরাঞ্চলে মেলা-ই দুষ্কর।ওই "মাদার ডেয়ারি"ই ভরসা।
খড়গপুর বামাচরণ বিদ্যাপীঠের সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক স্বপ্নিল ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো বোঝে না। তার সহকর্মী অনেকেই টিউশনি করে ভালো রোজগার করছে। তার কাছে এই কাজ অনৈতিক মনে হলেও, অনেকেই "পলিটিক্যালি কারেক্ট" মনে করে তা করছে।অনেকেই একে আবার "চাটাই ব্যবসা","রোজকারের লক্ষ্মীপুজো" ইত্যাদি নানাবিধ অভিধায় ভূষিত করে থাকে।
মাস শেষে বেতনের টাকা থেকে বাড়ির লোন,এলআইসি,প্রভিডেণ্ট ফাণ্ড ইত্যাদি দেওয়ার পর যা থাকে তাতে চাল-ডাল-মাছ-সব্জিপাতির যোগান দিতে দিতেই শেষ। সেখান থেকে কাটছাঁট করে প্রতি মাসে বৃদ্ধা মায়ের হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে হয়।
স্বপ্নিলের সোয়া চার বয়সের বাচ্চা নয়নের ইদানীং মাছ-মাংসের প্রচুর চাহিদা। যোগান না দিতে পারলে বাবা হিসেবে তার মনে খুব কষ্ট হয়। নভেম্বর মাস শুরু হয়েছে, সামনেই পরীক্ষা। এই বয়সে আর কিছু তেমন না পারুক একটু খাঁটি দুধ খেতে দেওয়া খুবই দরকার।কিন্তু গরুর খাঁটি দুধ তো এখন প্রায় আর শহরাঞ্চলে মেলা-ই দুষ্কর।ওই "মাদার ডেয়ারি"ই ভরসা।
আজকাল বিজ্ঞাপন মানুষের মনে বাড়তি চাহিদার সৃষ্টি করছে। চাতুরীযুক্ত বিজ্ঞাপন মানুষের মগজে প্রতিদিন যোগ করছে নতুন নতুন অ-দরকারী পণ্যের বার্তা। পণ্যের দামের চাইতে বিজ্ঞাপনের খরচ বেশী। সেই খরচ আর লাভের অংশ যোগ করে তিনগুণ দামে পণ্য ঢুকছে ক্রেতার ঘরে। সরকারের কাছ থেকে নয় টাকায় গিগাবাইট কিনে বিশ চল্লিশ গুণ বেশী দামে ডাটাপ্যাক বিক্রি হচ্ছে। মিনিপ্যাক বিক্রি হচ্ছে শতগুণ বেশী দামে। অর্থাৎ তিন টাকার পণ্যে ছয় টাকার বিজ্ঞাপন যোগ হয়ে নয় টাকায় পণ্য কিনে ধন্য হয় ক্রেতা। এটাই নাকি আধুনিক অর্থনীতির নিয়ম।
স্বপ্নিল সেদিন ছেলে কানু(নয়নের ডাকনাম)কে পাশে নিয়ে টেলিভিশনে খবর দেখছিলো। খবরের বিরতিতে বিজ্ঞাপনে দেখায় আজকাল নাকি দুধের সাথে হরলিকস্ মিশিয়ে খাওয়াতে হয় সন্তানদের। এতে নাকি শরীরের সাথে মস্তিষ্কের সব চাহিদা পূরণ হয়।তাতে বাচ্চা হয় "আরো বেশী টলার-আরো বেশী শার্পার"। বিজ্ঞাপনের সময় স্বপ্নিল রিমোট চেপে অন্য চ্যানেলে চলে যায়। সেখানেও একই বিজ্ঞাপন দেখে সে একটু বিব্রত বোধ করে। ছেলে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা জানতে চাইছিলো কিন্তু মনে জোর পায়নি।
শুধু শুনল কানু বলছে, "এইতা খেলে আমি আলো বেছি বুদ্দিমান হয়ে দাবো!!"
শুধু শুনল কানু বলছে, "এইতা খেলে আমি আলো বেছি বুদ্দিমান হয়ে দাবো!!"
স্বপ্নিল ঠিক করেছে এই মাসে সে ইন্টারনেট প্যাকেজ কিনবে না। এই টাকায় ছেলের জন্য খুঁজে-পেতে খাঁটি দুধ আর সাথে হরলিকস্ কিনে দেবেই দেবে। খাঁটি দুধের সাথে হরলিকস্ খেয়ে শরীরে বাড়তি চাহিদা পূরণ হোক বা না হোক ছেলের মনের জোরটা তো অন্তত বাড়বে।
৩
আজ দীপান্বিতা শ্যামাপূজা। চারিদিকে আলোর রোশনাই।অশুভকে বিনাশ করে শুভতে ফেরার দিন।কানু আর তার মা মণিমালা মিলে বাড়িটাকে খুব সুন্দর করে আলো দিয়ে সাজিয়েছে।রাতে দুজনে মিলে খুব বাজি পোড়াবে।মাঝে একদিন বাজার থেকে নানা ধরনের বাজি কিনে এনেছে মা-ছেলেতে মিলে।সন্ধ্যে হতে না হতেই মণিমালা সারা বাড়িটাকে মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে ফেললো।তারপর একটু পরে যখন সেগুলো জ্বালিয়ে দিলো তখন সেগুলোর সাথে আর সারাবাড়ি জুড়ে নানা বাহারী আলোয় এক অনির্বচনীয় আনন্দে ভরে উঠলো মন। বাজি পোড়াবার সময় কানুর কি আনন্দ-শুধু থেকে থেকে হাততালি দেয় আর বলে--"বাবা,বাবা দ্যাথো লকেট উই উলে দাত্থে--পুউউউউউউ ধাআআম্"।
স্বপ্নিল শুধু তাকিয়ে ওদের আনন্দ দেখে আর মনটা তার ভরে যায়।
আজ দীপান্বিতা শ্যামাপূজা। চারিদিকে আলোর রোশনাই।অশুভকে বিনাশ করে শুভতে ফেরার দিন।কানু আর তার মা মণিমালা মিলে বাড়িটাকে খুব সুন্দর করে আলো দিয়ে সাজিয়েছে।রাতে দুজনে মিলে খুব বাজি পোড়াবে।মাঝে একদিন বাজার থেকে নানা ধরনের বাজি কিনে এনেছে মা-ছেলেতে মিলে।সন্ধ্যে হতে না হতেই মণিমালা সারা বাড়িটাকে মোমবাতি দিয়ে সাজিয়ে ফেললো।তারপর একটু পরে যখন সেগুলো জ্বালিয়ে দিলো তখন সেগুলোর সাথে আর সারাবাড়ি জুড়ে নানা বাহারী আলোয় এক অনির্বচনীয় আনন্দে ভরে উঠলো মন। বাজি পোড়াবার সময় কানুর কি আনন্দ-শুধু থেকে থেকে হাততালি দেয় আর বলে--"বাবা,বাবা দ্যাথো লকেট উই উলে দাত্থে--পুউউউউউউ ধাআআম্"।
স্বপ্নিল শুধু তাকিয়ে ওদের আনন্দ দেখে আর মনটা তার ভরে যায়।
একটু রাতে স্টেশনের পাশের ক্লাব শক্তি সংঘের পক্ষ থেকে শীতার্ত মানুষদের কম্বল বিতরণ করা হবে। ক্লাবের ছেলেরা চাঁদা তোলার ফাঁকে ফাঁকে শহরে ঘুরে ঘুরে প্রকৃত শীতার্ত মানুষদের একটি লিস্ট তৈরী করেছে।তাদেরই হাতে কম্বল তুলে দেওয়া হবে।কম্বল বিতরণের জন্য তারা অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে মাষ্টারমশাই হিসেবে স্বপ্নিলকেও অনুরোধ করেছে।সে বারবার করে বারণ করেছিল যাবে না বলে,কিন্তু ক্লাবের প্রেসিডেণ্ট কোন কথাই শুনতে চাননি।
বাকিরা সবাই রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত।
সে রাজনীতি করে না।
এবার এইভাবে বোধহয় তাকে রাজনীতির আঙ্গিনায় আনার প্রচেষ্টা।
বাকিরা সবাই রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত।
সে রাজনীতি করে না।
এবার এইভাবে বোধহয় তাকে রাজনীতির আঙ্গিনায় আনার প্রচেষ্টা।
রাতে সংঘের অফিসে এসে লোকাল কেবল্ চ্যানেল এর গাড়ি, ভিডিও ক্যামেরা, মাইক্রোফোন হাতে সাংবাদিক দেখে একটু বিব্রত হয় স্বপ্নিল। এই সামান্য কাজ তাতে প্রচারের কি আছে? তার কথা কেউ গুরুত্ব দেয় না।
--এইটা আত্মপ্রচার না। মানুষকে এইসব কাজে উৎসাহিত করা। বুঝলেন মাষ্টারমশাই ?--বোঝাতে চান লোকাল উঠতি নেতা।হুঁ-হাঁ করে মাথা নাড়লেও স্বপ্নিল কোনও কথা বলে না।
--এইটা আত্মপ্রচার না। মানুষকে এইসব কাজে উৎসাহিত করা। বুঝলেন মাষ্টারমশাই ?--বোঝাতে চান লোকাল উঠতি নেতা।হুঁ-হাঁ করে মাথা নাড়লেও স্বপ্নিল কোনও কথা বলে না।
পূজামণ্ডপের একটু সামনেই মঞ্চ করা হয়েছে।এক-এক করে নাম ডাকা হচ্ছে।একজন নেতা কম্বল হাতে তৈরী, ক্যামেরার লাইট জ্বলে উঠে। এক এক জন করে কম্বল হাতে এগিয়ে যায়। কেউ একজন ভিখারিণীর গায়ে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন। ফুটপাতে শুয়ে থাকা এক পাগলও এসেছে।সেই পাগলের গায়ে কম্বল জড়িয়ে দেওয়ার দৃশ্য ধারণ করছে ক্যামেরা। স্বপ্নিলের মুখ লজ্জায় লাল হয়ে যায়। মঞ্চে চুপ করে বসে বসে সে যেন নাটকের এক-একটি দৃশ্য ধারণ করতে দেখছে। শহর ঘুরে তোলা নামের লিস্ট শেষ হতেই "আজ আমাদের এখানকার কম্বল বিতরণের পালা এখানেই শেষ,পরের কম্বল বিতরণ স্টেশনে শুয়ে থাকা সেইসব দুঃস্থ মানুষদের উদ্দেশ্যে" ঘোষক এই কথাগুলো ঘোষণা করতে না করতেই ষ্টেশনের দিক থেকে একটা উল্লাস-গর্জনের শব্দ ভেসে আসে।এইগুলো স্বপ্নিলকে দিতে হবে।বিতরণের নানা দৃশ্যধারণ করতে করতে ক্যামেরার সাথে সবাই এগিয়ে চলে রেল স্টেশনের দিকে। সেখানে কয়েকটি দৃশ্য ধারণ করার পর অনেক মানুষ,যারা কম্বল পায়নি তারা ঘিরে ফেলে তাদের।স্বপ্নিল দেখতে থাকে যেন শত শত নারী-পুরুষ-শিশু... মুহুর্তেই কম্বল শেষ হয়ে যায়। সেই হুড়োহুড়ি করার দৃশ্যটিও ক্যামেরাবন্দি করা হয়।
স্বপ্নিল, সংঘের সেক্রেটারির হাতে দায়িত্ব দিয়ে একটু দূরে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে ঘটনাটা। এদের আত্মপ্রচারের চেষ্টা দেখে নিজেকে এমন মহৎ একটি কাজের সাথে যুক্ত ভাবতেও লজ্জা হচ্ছে। সবাই নিজের মুখটি ক্যামেরার আলোর সামনে তুলে ধরতে ব্যস্ত। রেল স্টেশনের সব দুঃস্থ মানুষ ঘিরে আছে ওদের। ওদের কাছে আর কম্বল নেই এই কথা কেউ বিশ্বাস করছে না। ক্ষোভে কেউ কেউ নিজেদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। একসময়ে তাদের "পরে দেওয়া হবে" বলে কোনমতে পালিয়ে বাঁচে সবাই। তাদের এই কর্মযজ্ঞের একজন সঙ্গী যে রয়ে গেছে সেদিকে তাদের খেয়ালই থাকে না।
স্বপ্নিল দূরে দাঁড়িয়ে একজন মানুষকে শুধু দেখতে পেলো, যে এই কম্বল পেতে হুড়োহুড়ির মধ্যে নেই। লোকটা হৈ-চৈ শুনে একটা ছেঁড়া চাদরের ভিতর থেকে একবার শুধু মাথাটা বের করে ধাক্কাধাক্কি কাড়াকাড়ির দৃশ্য দেখে আবার তার মাথা ঢেকে ফেলে।
স্বপ্নিল দূরে দাঁড়িয়ে একজন মানুষকে শুধু দেখতে পেলো, যে এই কম্বল পেতে হুড়োহুড়ির মধ্যে নেই। লোকটা হৈ-চৈ শুনে একটা ছেঁড়া চাদরের ভিতর থেকে একবার শুধু মাথাটা বের করে ধাক্কাধাক্কি কাড়াকাড়ির দৃশ্য দেখে আবার তার মাথা ঢেকে ফেলে।
৪
পরের দিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্বপ্নিল হরলিকস্ এর জন্য বরাদ্দ টাকা দিয়ে একটা কম্বল কেনে। রিক্সা নিয়ে রেল স্টেশনের সেই দোকানের পাশে শুয়ে থাকা মানুষটাকে খুঁজতে থাকে।
খুঁজে না পেয়ে স্বপ্নিল দোকানদারের কাছে জানতে চায় -এখানে একটা লোক শুয়ে ছিল কাল রাতে...
লালমোহন চোখ তুলে তাকিয়ে নমস্কার করে বলে -- নমস্কার স্যার।
-- আপনি আমাকে চেনেন? স্বপ্নিল বলে।
-- হ্যাঁ স্যার, আমার ছেলে আপনার স্কুলে পড়ে। আমিও স্যার আপনার বাড়ির কাছাকাছিই থাকি। বসুন স্যার। আপনি মনে হয় মফিজকে খুঁজছেন। এখনই আসবে। দোকানের নোংরা ঝাঁট দিয়ে দূরে ফেলতে গেছে।বাংলাদেশী স্যার।একটু ছিটিয়াল।এনজিও থেকে ওষুধ দিয়ে গেছে।পাগলামির।কাছে রেখে খাওয়াই।আর আতুর মানুষকে একটু যত্ন-আত্তি আর কি!!
মাঝে মাঝে কি যে হয় ওর।ওর হারানো বোনের জন্য খালি কাঁদে।আর জল দেখলে তো আরও বেশী করে কাঁদে।
-- এ-এই যে মফিজ তাড়াতাড়ি আয়।
স্বপ্নিল তাকিয়ে দেখে ময়লা জামা-কাপড় পরা একটা লোক, মুখে সামান্য খোঁচা দাড়ি একটা বালতি নিয়ে এগিয়ে আসছে।
মফিজ ময়লার বালতিটা রেখে ধোওয়া হাত গামছায় মুছতে থাকে।
-- স্যার তোকে খুঁজছেন। লালমোহন বলে।
-- নমছ্কার ছার। মফিজ বলে।
-- নমস্কার। "বসুন" বলে মফিজের হাত ধরে টেনে কাঠের বেঞ্চে বসায়।
-- ভালো আছেন?
- হ ছার ভালা আচি।
হাতের কম্বলটি মফিজের হাতে তুলে দিয়ে বলে,
-- এটা আপনার জন্য।
-- স্যার একটা চা দিই? লালমোহন বলে।
-- ঠিক আছে দিন, চিনি কম দিয়ে লিকার চা দিন।
চা খেতে খেতে মফিজকে জিজ্ঞেস করে স্বপ্নিল,
-- আপনার এ অবস্থা কেন? ওদেশে আত্মীয়স্বজন কে কোথায় থাকেন কিচ্ছু কি মনে পড়ে না আপনার?আপনার বোনেরই বা কি হয়েছে?
পরের দিন রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্বপ্নিল হরলিকস্ এর জন্য বরাদ্দ টাকা দিয়ে একটা কম্বল কেনে। রিক্সা নিয়ে রেল স্টেশনের সেই দোকানের পাশে শুয়ে থাকা মানুষটাকে খুঁজতে থাকে।
খুঁজে না পেয়ে স্বপ্নিল দোকানদারের কাছে জানতে চায় -এখানে একটা লোক শুয়ে ছিল কাল রাতে...
লালমোহন চোখ তুলে তাকিয়ে নমস্কার করে বলে -- নমস্কার স্যার।
-- আপনি আমাকে চেনেন? স্বপ্নিল বলে।
-- হ্যাঁ স্যার, আমার ছেলে আপনার স্কুলে পড়ে। আমিও স্যার আপনার বাড়ির কাছাকাছিই থাকি। বসুন স্যার। আপনি মনে হয় মফিজকে খুঁজছেন। এখনই আসবে। দোকানের নোংরা ঝাঁট দিয়ে দূরে ফেলতে গেছে।বাংলাদেশী স্যার।একটু ছিটিয়াল।এনজিও থেকে ওষুধ দিয়ে গেছে।পাগলামির।কাছে রেখে খাওয়াই।আর আতুর মানুষকে একটু যত্ন-আত্তি আর কি!!
মাঝে মাঝে কি যে হয় ওর।ওর হারানো বোনের জন্য খালি কাঁদে।আর জল দেখলে তো আরও বেশী করে কাঁদে।
-- এ-এই যে মফিজ তাড়াতাড়ি আয়।
স্বপ্নিল তাকিয়ে দেখে ময়লা জামা-কাপড় পরা একটা লোক, মুখে সামান্য খোঁচা দাড়ি একটা বালতি নিয়ে এগিয়ে আসছে।
মফিজ ময়লার বালতিটা রেখে ধোওয়া হাত গামছায় মুছতে থাকে।
-- স্যার তোকে খুঁজছেন। লালমোহন বলে।
-- নমছ্কার ছার। মফিজ বলে।
-- নমস্কার। "বসুন" বলে মফিজের হাত ধরে টেনে কাঠের বেঞ্চে বসায়।
-- ভালো আছেন?
- হ ছার ভালা আচি।
হাতের কম্বলটি মফিজের হাতে তুলে দিয়ে বলে,
-- এটা আপনার জন্য।
-- স্যার একটা চা দিই? লালমোহন বলে।
-- ঠিক আছে দিন, চিনি কম দিয়ে লিকার চা দিন।
চা খেতে খেতে মফিজকে জিজ্ঞেস করে স্বপ্নিল,
-- আপনার এ অবস্থা কেন? ওদেশে আত্মীয়স্বজন কে কোথায় থাকেন কিচ্ছু কি মনে পড়ে না আপনার?আপনার বোনেরই বা কি হয়েছে?
কিছুক্ষণ একটু চুপ করে মাথা নীচু করে থেকে চোখের জল ফেলতে থাকে সে।অনেক বাদে একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে থাকে মফিজ। যে গল্পটি সে যার তার সাথে করে না। যাকে তার ভালো লাগে তার সাথে করে।
-- আত্তীয়ছজন কেউ নাই ছার।থাহার মইদ্যে ছিল এক বইন।সে আর আমি।এইইসব...
মা মারা জাওনের সমুয় বইনডার এট্টু মাতায় দোইষ দেকা দ্যায়।মাডারে আর আমারে খুপ ভালোবাইসতো তো।আব্বায় গ্যাছে তারও আগে।তো হগ্গলে কইল "মফিজ বইনডারে একবার ভেলুরে দেখায়া লইয়া আয়,আল্লায় রহম করলে তর বইন ঠিক হইয়্যা জাইব।"। তয় বইনরে লইয়া ঢাহায় পাসপুট করায়া ভেলুরে লইয়্যা যাইতাছিলাম।
আমার গেরামের বাড়ি গৌরীপুর। ঢাহার পোস্তগলায় একটা রড কারখানায় কাম করতাম। রাইত দিন কাম করতে অয় তাই ফেক্টরীর মালিক লেবারগর লেইগ্যা টিনের চালাঘর বানায়া দেয়। পরিবার লইয়াও থাহুন যায়। ঈদের পরবে ছুডি পাইয়্যা জমানো হগ্গল ট্যাহা লইয়্যা বুনরে লইয়্যা ভেলুর যাইতাছিলাম।
হাউরা অবদি কুনো সমইস্যা হয় নাই ছার।হাউরা থেইক্কা রেলগাড়ি ইহানে আইসা জিরাইতাসে। খুব ভোর বেলা না খাইয়া রেলগাড়িতে উঠসি তো, হুদাপ্যাট। গাড়ির থামনের টাইম পেরায় শ্যাষ। বইনডার মুখের দিগে চাইয়া দেহি মুখখান হুগ্না লাগতাছে।
খিদা লাগছে অই বুনি?--শরমে না কি মাতার তো ঠিহ নাই তাই কতা কয় না।
আমি জিগাইলাম -বুনি, রুটি-কলা খাবি?
হ্যায় মাতা নাইরা কয় -- হ খামু।
রুটি কলা কিইন্না বইনরে লইয়া খাইলাম। এট্টু বাদে আমার দিগে চাইয়া ডরাইয়া ডরাইয়া কয়,
-- পানি খামু...
-- পানি খাবি? এহন পানি কই পাই?তুই এই ছিটের মইধ্যেই বইয়া থাক্।কইও জাবি না কিন্তু। আমি পানি লইয়া আইতাছি।
আমার আতের কাপ্রের পুটলাডা আমার ছিটের উপ্রে রাইখ্যা পানি আইনতে নিচে নাইম্যা গ্যালাম। ইস্টিশনের ভিত্রে উই দিগে একডা চায়ের দোহান আছিলো। ঐ দোহানে গিয়া আমি মগ দিয়া পানি খাইলাম আর পানির মগটা বুনির লেইগ্যা নিয়া আইতাছিলাম। তহন পিছে থেইক্কা আমারে ডাইক্কা শুইধ্ধ বাষায় কয় -অই মিঁয়া পানির মগ লইয়া কই যাও? এইহানে খারাইয়া পানি খাও। মগ নেওনের নিয়ম নাই। আমি আরেক দুহানে গেলাম হেইহানেও এহই নিয়ম। আমি দৌড় দিয়া ইস্টিশনের বাইরে গেলাম।
সবাই এহই কথা কয়। শেষে তিন টেহা দিয়া একটা পুরান গেলাস কিনলাম চায়ের দুহান থেইক্কা। গেলাসে পানি ভইরা ইস্টিশনে ডুইক্কা দেহি রেলগাড়ি ছাইড়া দিছে। আমি অনেকক্ষণ পিছনে পিছনে দৌড়াইলাম। আমি যতো দৌড়াই গাড়ি ততোই দূরে চইলা যায়। শ্যাষে আমি "বুনি রে, বুনি রে" কইরা অনেক কান্দাকাডি করলাম। পরে বারোডার লুকাল গাড়িতে পরের পর অনেক ইস্টিশানে যাইয়া নাইম্যা নাইম্যা বুনিরে অনেক খুঁজাখুঁজি করলাম। আমার বুনিরে পাইলাম না।
পরে বাতরুমে লুকাইয়া টিটি রে ফাঁকি দিয়া দিয়া ভেলুরে গিয়াও সাত দিন ভরা হেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় খুঁজলাম। পাইলাম না। ------------
মাথা নাড়তে নাড়তে মফিজের কণ্ঠ ভিজে আসছে। কথা বলতে পারছে না। থেমে যায় মফিজ।
-- আত্তীয়ছজন কেউ নাই ছার।থাহার মইদ্যে ছিল এক বইন।সে আর আমি।এইইসব...
মা মারা জাওনের সমুয় বইনডার এট্টু মাতায় দোইষ দেকা দ্যায়।মাডারে আর আমারে খুপ ভালোবাইসতো তো।আব্বায় গ্যাছে তারও আগে।তো হগ্গলে কইল "মফিজ বইনডারে একবার ভেলুরে দেখায়া লইয়া আয়,আল্লায় রহম করলে তর বইন ঠিক হইয়্যা জাইব।"। তয় বইনরে লইয়া ঢাহায় পাসপুট করায়া ভেলুরে লইয়্যা যাইতাছিলাম।
আমার গেরামের বাড়ি গৌরীপুর। ঢাহার পোস্তগলায় একটা রড কারখানায় কাম করতাম। রাইত দিন কাম করতে অয় তাই ফেক্টরীর মালিক লেবারগর লেইগ্যা টিনের চালাঘর বানায়া দেয়। পরিবার লইয়াও থাহুন যায়। ঈদের পরবে ছুডি পাইয়্যা জমানো হগ্গল ট্যাহা লইয়্যা বুনরে লইয়্যা ভেলুর যাইতাছিলাম।
হাউরা অবদি কুনো সমইস্যা হয় নাই ছার।হাউরা থেইক্কা রেলগাড়ি ইহানে আইসা জিরাইতাসে। খুব ভোর বেলা না খাইয়া রেলগাড়িতে উঠসি তো, হুদাপ্যাট। গাড়ির থামনের টাইম পেরায় শ্যাষ। বইনডার মুখের দিগে চাইয়া দেহি মুখখান হুগ্না লাগতাছে।
খিদা লাগছে অই বুনি?--শরমে না কি মাতার তো ঠিহ নাই তাই কতা কয় না।
আমি জিগাইলাম -বুনি, রুটি-কলা খাবি?
হ্যায় মাতা নাইরা কয় -- হ খামু।
রুটি কলা কিইন্না বইনরে লইয়া খাইলাম। এট্টু বাদে আমার দিগে চাইয়া ডরাইয়া ডরাইয়া কয়,
-- পানি খামু...
-- পানি খাবি? এহন পানি কই পাই?তুই এই ছিটের মইধ্যেই বইয়া থাক্।কইও জাবি না কিন্তু। আমি পানি লইয়া আইতাছি।
আমার আতের কাপ্রের পুটলাডা আমার ছিটের উপ্রে রাইখ্যা পানি আইনতে নিচে নাইম্যা গ্যালাম। ইস্টিশনের ভিত্রে উই দিগে একডা চায়ের দোহান আছিলো। ঐ দোহানে গিয়া আমি মগ দিয়া পানি খাইলাম আর পানির মগটা বুনির লেইগ্যা নিয়া আইতাছিলাম। তহন পিছে থেইক্কা আমারে ডাইক্কা শুইধ্ধ বাষায় কয় -অই মিঁয়া পানির মগ লইয়া কই যাও? এইহানে খারাইয়া পানি খাও। মগ নেওনের নিয়ম নাই। আমি আরেক দুহানে গেলাম হেইহানেও এহই নিয়ম। আমি দৌড় দিয়া ইস্টিশনের বাইরে গেলাম।
সবাই এহই কথা কয়। শেষে তিন টেহা দিয়া একটা পুরান গেলাস কিনলাম চায়ের দুহান থেইক্কা। গেলাসে পানি ভইরা ইস্টিশনে ডুইক্কা দেহি রেলগাড়ি ছাইড়া দিছে। আমি অনেকক্ষণ পিছনে পিছনে দৌড়াইলাম। আমি যতো দৌড়াই গাড়ি ততোই দূরে চইলা যায়। শ্যাষে আমি "বুনি রে, বুনি রে" কইরা অনেক কান্দাকাডি করলাম। পরে বারোডার লুকাল গাড়িতে পরের পর অনেক ইস্টিশানে যাইয়া নাইম্যা নাইম্যা বুনিরে অনেক খুঁজাখুঁজি করলাম। আমার বুনিরে পাইলাম না।
পরে বাতরুমে লুকাইয়া টিটি রে ফাঁকি দিয়া দিয়া ভেলুরে গিয়াও সাত দিন ভরা হেই শহরের রাস্তায় রাস্তায় খুঁজলাম। পাইলাম না। ------------
মাথা নাড়তে নাড়তে মফিজের কণ্ঠ ভিজে আসছে। কথা বলতে পারছে না। থেমে যায় মফিজ।
অবাক বিস্ময়ে শুনতে থাকা স্বপ্নিল জিজ্ঞাসা করে -- তারপর?
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে থাকে মফিজ -- তার পরে এইহানে ফিইরা আইলাম। আমার বুনি আমারে খুঁজতে খুঁজতে যদি এই ইস্টিশনে আয়ে? আমারে না পাইলে ও কতো কইষ্ট পাইবো,তাই না! আপ্নেই কন ছার কইষ্ট পাইবো না?
-- হ্যাঁ অবশ্যই কষ্ট পাবে। স্বপ্নিল বলে।
-- কিন্তু সে আছে কোথায় এতবছর ধরে?আদৌ বেঁচে আছে কি না?
-- কন কি ছার?চিৎকার করে ওঠে মফিজ।আছে আছে ঠিক বাঁইচ্যা আছে।
-- ঠিক আছে।তুমি তো অসুস্থ।ওষুধ গুলো ঠিকঠাক খেও।নইলে বুনিকে চিনবে কেমন করে?
-- আপনে জ্ঞানী মানুষ তাই বুঝলেন ছার।আমি আমার মায়ের অ্যাক প্যাডের বইনরে চিনুম না।আমারে মানুষে পাগলা মনে করে। আমি কিন্তু ছার পাগলা না। আমার মনে লয় ছার বুনি ঠিহই একদিন খুঁইজতে খুঁইজতে এই ইস্টিশনে আইবো। হেই আশাতেই ছার একুশ বছর ধইরা অপেক্কায় আছি ছার।অপেক্ষায় আছি।হুঁ-হুঁ-হুঁ- বুনি রে তুই কই গেলি বইন।ফিরা আয় ফিরা আয়--অবিশ্রান্ত ধারায় অশ্রুমুক্তো ঝরে পড়তে থাকে মফিজের দু চোখ থেকে।
স্বপ্নিল কি বলবে কিছু খুঁজে না পেয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে,লালমোহনকে নমস্কার করে ফিরে আসতে থাকে।
একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে থাকে মফিজ -- তার পরে এইহানে ফিইরা আইলাম। আমার বুনি আমারে খুঁজতে খুঁজতে যদি এই ইস্টিশনে আয়ে? আমারে না পাইলে ও কতো কইষ্ট পাইবো,তাই না! আপ্নেই কন ছার কইষ্ট পাইবো না?
-- হ্যাঁ অবশ্যই কষ্ট পাবে। স্বপ্নিল বলে।
-- কিন্তু সে আছে কোথায় এতবছর ধরে?আদৌ বেঁচে আছে কি না?
-- কন কি ছার?চিৎকার করে ওঠে মফিজ।আছে আছে ঠিক বাঁইচ্যা আছে।
-- ঠিক আছে।তুমি তো অসুস্থ।ওষুধ গুলো ঠিকঠাক খেও।নইলে বুনিকে চিনবে কেমন করে?
-- আপনে জ্ঞানী মানুষ তাই বুঝলেন ছার।আমি আমার মায়ের অ্যাক প্যাডের বইনরে চিনুম না।আমারে মানুষে পাগলা মনে করে। আমি কিন্তু ছার পাগলা না। আমার মনে লয় ছার বুনি ঠিহই একদিন খুঁইজতে খুঁইজতে এই ইস্টিশনে আইবো। হেই আশাতেই ছার একুশ বছর ধইরা অপেক্কায় আছি ছার।অপেক্ষায় আছি।হুঁ-হুঁ-হুঁ- বুনি রে তুই কই গেলি বইন।ফিরা আয় ফিরা আয়--অবিশ্রান্ত ধারায় অশ্রুমুক্তো ঝরে পড়তে থাকে মফিজের দু চোখ থেকে।
স্বপ্নিল কি বলবে কিছু খুঁজে না পেয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে,লালমোহনকে নমস্কার করে ফিরে আসতে থাকে।
৫
"গাড়ি নম্বর ১২৮৬৪, হাওড়া-যশবন্তপুর ফাস্ট এক্সপ্রেস;যশবন্তপুর থেকে হাওড়া যাওয়ার গাড়ি বারো নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে"--ঘোষিকার সুরেলা গলার রেশ মেলাতে না মেলাতেই ঝমঝম করে শব্দ তুলে স্টেশনে ঢুকল ট্রেনটি।হকার আর ক্যানভাসাররা দৌড়ল যে যার ব্যবসা করতে।মুহুর্তে সরগরম হয়ে উঠলো প্ল্যাটফর্মটি।
"গাড়ি নম্বর ১২৮৬৪, হাওড়া-যশবন্তপুর ফাস্ট এক্সপ্রেস;যশবন্তপুর থেকে হাওড়া যাওয়ার গাড়ি বারো নম্বর প্ল্যাটফর্মে আসছে"--ঘোষিকার সুরেলা গলার রেশ মেলাতে না মেলাতেই ঝমঝম করে শব্দ তুলে স্টেশনে ঢুকল ট্রেনটি।হকার আর ক্যানভাসাররা দৌড়ল যে যার ব্যবসা করতে।মুহুর্তে সরগরম হয়ে উঠলো প্ল্যাটফর্মটি।
-- ভাইজান!! ভাইজান গো!! একটি মেয়েলী গলার চিৎকারে হঠাৎ চমকে ওঠে স্বপ্নিল।
কি হল রে বাবা!!
কারোর আবার কোন বিপদ-আপদ হল নাকি?
পেছন ফিরে দেখে একজন সম্ভ্রান্ত স্ত্রীলোক ও তার পেছনে লাগেজ হাতে নিয়ে আরও একজন মধ্যবয়স্ক লোক ট্রেন থেকে নেমে ছুটে যাচ্ছে লালমোহনের দোকানের দিকে।
কি ব্যাপার?
চারদিক থেকে লোকজন উৎসাহী হয়ে এগিয়ে আসতে থাকে।
-- রাণী,রাণী শোন কি করছো?-পুরুষটি বলতে থাকেন।
রাণী নামক স্ত্রীলোকটি কোনদিকে, কোন কথায় কান না দিয়ে সোজা গিয়ে দু'হাতে বেষ্টন করে ধরে মফিজকে।
ক্রন্দনরত মফিজও ঘটনার আকস্মিকতায় হঠাৎ হকচকিয়ে গেলেও তারপর মেয়েটির মুখটিকে দু'হাতে ভালোভাবে ধরে দেখে অঝোরে কেঁদেই চলেছে আর অস্ফুটে বলেই চলেছে,"আমি জানতাম,ঠিক জানতাম।"
আর রাণী তার স্বামীকে লক্ষ্য করে বলে চলেছে,"আমি বলেছিলাম ভাইজানরে আমি পাবোই।"
কারোর আবার কোন বিপদ-আপদ হল নাকি?
পেছন ফিরে দেখে একজন সম্ভ্রান্ত স্ত্রীলোক ও তার পেছনে লাগেজ হাতে নিয়ে আরও একজন মধ্যবয়স্ক লোক ট্রেন থেকে নেমে ছুটে যাচ্ছে লালমোহনের দোকানের দিকে।
কি ব্যাপার?
চারদিক থেকে লোকজন উৎসাহী হয়ে এগিয়ে আসতে থাকে।
-- রাণী,রাণী শোন কি করছো?-পুরুষটি বলতে থাকেন।
রাণী নামক স্ত্রীলোকটি কোনদিকে, কোন কথায় কান না দিয়ে সোজা গিয়ে দু'হাতে বেষ্টন করে ধরে মফিজকে।
ক্রন্দনরত মফিজও ঘটনার আকস্মিকতায় হঠাৎ হকচকিয়ে গেলেও তারপর মেয়েটির মুখটিকে দু'হাতে ভালোভাবে ধরে দেখে অঝোরে কেঁদেই চলেছে আর অস্ফুটে বলেই চলেছে,"আমি জানতাম,ঠিক জানতাম।"
আর রাণী তার স্বামীকে লক্ষ্য করে বলে চলেছে,"আমি বলেছিলাম ভাইজানরে আমি পাবোই।"
স্বপ্নিল,মফিজ,লালমোহন,বুনি ওরফে রাণী,রাণীর স্বামী চন্দ্রপাল আরও ষ্টেশনের নানা ব্যবসায়ী-হকার সবাই মিলে একসাথে বসেছে।সবাই ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক।কিন্তু কারোর আর বুঝতে বাকি নেই যে, এই রাণী-ই হল মফিজের সেই হারিয়ে যাওয়া বুনি।শুধু মফিজের মুখে কোন কথা নেই।সে একদৃষ্টিতে তার হারানো বোনকে দেখেই যাচ্ছে।
স্বপ্নিলই প্রথমে জিজ্ঞেস করে তার স্বামীকে,
আচ্ছা ভাই, আপনিই ঘটনাটা বলুন?কিভাবে কি হয়েছিল?
চন্দ্রপাল হেসে বলেন,সে অনেক ঘটনা।
স্বপ্নিলই প্রথমে জিজ্ঞেস করে তার স্বামীকে,
আচ্ছা ভাই, আপনিই ঘটনাটা বলুন?কিভাবে কি হয়েছিল?
চন্দ্রপাল হেসে বলেন,সে অনেক ঘটনা।
চন্দ্রপালের বয়ান অনুসারে যা সবাই শুনল তা হল---
ট্রেন তো ছেড়ে দিল।বুনি তো প্রথমে অতটা বোঝেনি কি হচ্ছে।তারপর যখন বুঝতে পারলো তখন অনেক ষ্টেশন পার হয়ে গেছে।ও চিৎকার করে ভাইজান ,ভাইজান বলে কাঁদতে থাকে।কয়েকবার চলন্ত ট্রেন থেকে নামারও চেষ্টা করে,কিন্তু অন্যান্য লোকজন বাধা দেওয়ায় তাতে সফল হয় না।
ওই কম্পার্টমেণ্টেই একটু দূরেই ছিলেন রাজীববাবু আর ওনার স্ত্রী।ওনারা ওকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসে বসান।সর্বক্ষণ আগলে আগলে রাখেন।রাজীববাবু চেন্নাইতে ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলেন।ওনার বাড়ি কোলকাতার বড়বাজারে।রাজীববাবুর স্ত্রীকে বোধহয় একটু ভরসা পেয়ে বুনি আর সারা রাস্তা কিছু করেনি।
রাজীববাবু ওদের সব লাগেজ ঘেঁটে সব কাগজপত্র পড়ে বুঝতে পারেন বুনির চিকিৎসার করানোর কথা।তারপর তিনি নিজের উদ্যোগেই বুনির চিকিৎসার ভার নিজে তুলে নিয়ে ভেলোরে ভালোভাবে চিকিৎসা করিয়ে বুনিকে সুস্থ করে তোলেন।
এইভাবে কেটে যায় বছর পাঁচেক।
মফিজের ঐ কাপড়ের পোঁটলায় দুই ভাই-বোনের একটা ছবি ছিল।বুনি সুস্থ হওয়ার পরও ঐ ছবি দেখে খালি কাঁদতো।ওর এই অবস্থা দেখে ওনারা ঠিক করেন ওকে নিজেদের কাছেই রাখবেন নিজের বোন হিসেবে।ওর নতুন নাম তারা দেন রাণী।ওকে হিন্দুদের আচার ব্যবহার সব শেখান।এর মধ্যে রাণীকে রি-চেকআপ করাতে নিয়ে যাওয়ার সময় চন্দ্রপালের সাথে ওদের ট্রেনে আলাপ হয়।চন্দ্রপালের রাণীকে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগে ও রাজীববাবুর ফোন নম্বর নিয়ে কিছুদিন বাদেই সে তাদের কাছে রাণীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।চন্দ্রপালের বাড়ি ও ব্যবসার ক্ষেত্র দুই-ই ছিল ভুবনেশ্বরে।
রাজীববাবু কিন্তু চন্দ্রপালের কাছে কোন কথাই লুকোন নি।চন্দ্রপাল সব জেনে শুনেই রাণীকে গতবছর ভালোবেসে বিয়ে করে।
চন্দ্রপাল রাণীর এই ব্যথার কথাটা জানতো।তাই সে সব সময় স্ত্রীকে সঙ্গ দিয়ে গেছে,যদি মফিজকে খুঁজে পাওয়া যায়।কিন্তু রাণীর কিছুতেই কোন ষ্টেশনে মফিজ নেমে গিয়েছিল তা মনে পড়তো না।
ট্রেন তো ছেড়ে দিল।বুনি তো প্রথমে অতটা বোঝেনি কি হচ্ছে।তারপর যখন বুঝতে পারলো তখন অনেক ষ্টেশন পার হয়ে গেছে।ও চিৎকার করে ভাইজান ,ভাইজান বলে কাঁদতে থাকে।কয়েকবার চলন্ত ট্রেন থেকে নামারও চেষ্টা করে,কিন্তু অন্যান্য লোকজন বাধা দেওয়ায় তাতে সফল হয় না।
ওই কম্পার্টমেণ্টেই একটু দূরেই ছিলেন রাজীববাবু আর ওনার স্ত্রী।ওনারা ওকে নিজেদের কাছে নিয়ে এসে বসান।সর্বক্ষণ আগলে আগলে রাখেন।রাজীববাবু চেন্নাইতে ব্যবসার কাজে যাচ্ছিলেন।ওনার বাড়ি কোলকাতার বড়বাজারে।রাজীববাবুর স্ত্রীকে বোধহয় একটু ভরসা পেয়ে বুনি আর সারা রাস্তা কিছু করেনি।
রাজীববাবু ওদের সব লাগেজ ঘেঁটে সব কাগজপত্র পড়ে বুঝতে পারেন বুনির চিকিৎসার করানোর কথা।তারপর তিনি নিজের উদ্যোগেই বুনির চিকিৎসার ভার নিজে তুলে নিয়ে ভেলোরে ভালোভাবে চিকিৎসা করিয়ে বুনিকে সুস্থ করে তোলেন।
এইভাবে কেটে যায় বছর পাঁচেক।
মফিজের ঐ কাপড়ের পোঁটলায় দুই ভাই-বোনের একটা ছবি ছিল।বুনি সুস্থ হওয়ার পরও ঐ ছবি দেখে খালি কাঁদতো।ওর এই অবস্থা দেখে ওনারা ঠিক করেন ওকে নিজেদের কাছেই রাখবেন নিজের বোন হিসেবে।ওর নতুন নাম তারা দেন রাণী।ওকে হিন্দুদের আচার ব্যবহার সব শেখান।এর মধ্যে রাণীকে রি-চেকআপ করাতে নিয়ে যাওয়ার সময় চন্দ্রপালের সাথে ওদের ট্রেনে আলাপ হয়।চন্দ্রপালের রাণীকে প্রথম দেখাতেই ভালো লাগে ও রাজীববাবুর ফোন নম্বর নিয়ে কিছুদিন বাদেই সে তাদের কাছে রাণীকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়।চন্দ্রপালের বাড়ি ও ব্যবসার ক্ষেত্র দুই-ই ছিল ভুবনেশ্বরে।
রাজীববাবু কিন্তু চন্দ্রপালের কাছে কোন কথাই লুকোন নি।চন্দ্রপাল সব জেনে শুনেই রাণীকে গতবছর ভালোবেসে বিয়ে করে।
চন্দ্রপাল রাণীর এই ব্যথার কথাটা জানতো।তাই সে সব সময় স্ত্রীকে সঙ্গ দিয়ে গেছে,যদি মফিজকে খুঁজে পাওয়া যায়।কিন্তু রাণীর কিছুতেই কোন ষ্টেশনে মফিজ নেমে গিয়েছিল তা মনে পড়তো না।
৬
আগামীকাল ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।
রাণী তাই চন্দ্রপালের সাথে যাচ্ছে তার রাজীবদাদাকে ভাইফোঁটা দিতে,যা সে রাণী নাম ধারণ করার পর থেকে এ যাবৎ করে এসেছে।
আজ আল্লা বা ভগবান মেহেরবান বা কৃপা করেছেন বলেই বুনি ওরফে রাণী তার আসল দাদাকে খুঁজে পেল।ঘটনাটা শুনে উপস্থিত কারোরই চোখ শুকনো ছিল না।লালমোহন তো বলেই ফেললো,আজ আমাদের গরীবখানায় আপনাদের যেতেই হবে।সবাই তাতে সায় দিল।রাজীববাবুকে ফোন করে সব ঘটনা বলা হল।তিনিও সস্ত্রীক খড়গপুরে চলে এলেন।
আজ সবার মনেই খুব আনন্দ।
"পানি পাগল মফিজের" যেন আজ শাপমুক্তি ঘটলো।
খড়গপুর ষ্টেশন ব্যবসায়ী সমিতি চাঁদা তুলে একটা ছোটখাটো খাওয়া-দাওয়ার ও ব্যবস্থা করে ফেললো।
আগামীকাল ভ্রাতৃদ্বিতীয়া।
রাণী তাই চন্দ্রপালের সাথে যাচ্ছে তার রাজীবদাদাকে ভাইফোঁটা দিতে,যা সে রাণী নাম ধারণ করার পর থেকে এ যাবৎ করে এসেছে।
আজ আল্লা বা ভগবান মেহেরবান বা কৃপা করেছেন বলেই বুনি ওরফে রাণী তার আসল দাদাকে খুঁজে পেল।ঘটনাটা শুনে উপস্থিত কারোরই চোখ শুকনো ছিল না।লালমোহন তো বলেই ফেললো,আজ আমাদের গরীবখানায় আপনাদের যেতেই হবে।সবাই তাতে সায় দিল।রাজীববাবুকে ফোন করে সব ঘটনা বলা হল।তিনিও সস্ত্রীক খড়গপুরে চলে এলেন।
আজ সবার মনেই খুব আনন্দ।
"পানি পাগল মফিজের" যেন আজ শাপমুক্তি ঘটলো।
খড়গপুর ষ্টেশন ব্যবসায়ী সমিতি চাঁদা তুলে একটা ছোটখাটো খাওয়া-দাওয়ার ও ব্যবস্থা করে ফেললো।
৭
আজ ভাইফোঁটা।
মফিজকে ভালো করে পরিষ্কার করে স্নান করিয়ে ধুতি-পাঞ্জাবী পরিয়ে রাজীববাবুর পাশে বসিয়েছে রাণী।এইসব আচারে অনভ্যস্ত মফিজ খুব লজ্জা পাচ্ছিলো।কিন্তু রাণী,রাজীববাবু আর বাড়ির সবাই কোন কথা শোনেনই নি।আজ যে তার আসল দাদাকে সে ভাইফোঁটা দেবে।এ যে তার কত বড় প্রাপ্তি।রাজীববাবু আর চন্দ্রপাল মিলে ষ্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সকলকে,সপরিবারে নিমন্ত্রণ করেছে তাদের এখানে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য।
রাণী নিজে গিয়ে স্বপ্নিলকে সপরিবারে নিমন্ত্রণ করে এসেছে ভাইফোঁটা দেবে বলে।
স্বপ্নিলের নিজের কোনও বোন বা দিদি না থাকায় ভাইফোঁটার দিনটা সে খুব কষ্ট পেত।
আজ সেও এক নতুন বোন পেল।
লালমোহনের বোন বা দিদি কেউ ছিল না।সেও ভাইফোঁটা পাবে শুনে আনন্দে ঘনঘন চোখ মুছছিল।
লালমোহনের বাড়ির সামনে আজ বিশাল প্যাণ্ডেল হয়েছে।
শহরের বড় ক্যাটারারকে খাবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লালমোহন,স্বপ্নিল,মফিজ আর রাজীববাবু পরপর বসে আছেন।
একে একে সবার কপালে অনামিকা দিয়ে চন্দনের ফোঁটা এঁকে দিতে দিতে রাণী মন্ত্র বলে চলে,
আজ ভাইফোঁটা।
মফিজকে ভালো করে পরিষ্কার করে স্নান করিয়ে ধুতি-পাঞ্জাবী পরিয়ে রাজীববাবুর পাশে বসিয়েছে রাণী।এইসব আচারে অনভ্যস্ত মফিজ খুব লজ্জা পাচ্ছিলো।কিন্তু রাণী,রাজীববাবু আর বাড়ির সবাই কোন কথা শোনেনই নি।আজ যে তার আসল দাদাকে সে ভাইফোঁটা দেবে।এ যে তার কত বড় প্রাপ্তি।রাজীববাবু আর চন্দ্রপাল মিলে ষ্টেশন ব্যবসায়ী সমিতির সকলকে,সপরিবারে নিমন্ত্রণ করেছে তাদের এখানে খাওয়া-দাওয়া করার জন্য।
রাণী নিজে গিয়ে স্বপ্নিলকে সপরিবারে নিমন্ত্রণ করে এসেছে ভাইফোঁটা দেবে বলে।
স্বপ্নিলের নিজের কোনও বোন বা দিদি না থাকায় ভাইফোঁটার দিনটা সে খুব কষ্ট পেত।
আজ সেও এক নতুন বোন পেল।
লালমোহনের বোন বা দিদি কেউ ছিল না।সেও ভাইফোঁটা পাবে শুনে আনন্দে ঘনঘন চোখ মুছছিল।
লালমোহনের বাড়ির সামনে আজ বিশাল প্যাণ্ডেল হয়েছে।
শহরের বড় ক্যাটারারকে খাবারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লালমোহন,স্বপ্নিল,মফিজ আর রাজীববাবু পরপর বসে আছেন।
একে একে সবার কপালে অনামিকা দিয়ে চন্দনের ফোঁটা এঁকে দিতে দিতে রাণী মন্ত্র বলে চলে,
"যম-দুয়ারে দিয়ে কাঁটা,
বোন দেয় ভাইকে দ্বিতীয়ার ফোঁটা;
ফোঁটা দেই রে ভাই আমি,
যম-ঘরে না যাইও তুমি"
বোন দেয় ভাইকে দ্বিতীয়ার ফোঁটা;
ফোঁটা দেই রে ভাই আমি,
যম-ঘরে না যাইও তুমি"
উলুধ্বনি আর শঙ্খের আওয়াজে মধুময় হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস।
সাম্প্রদায়িকতার ভেদাভেদ মুছে এ হেন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া কেউ যে কখনো দেখেনি আগে।
সাম্প্রদায়িকতার ভেদাভেদ মুছে এ হেন ভ্রাতৃদ্বিতীয়া কেউ যে কখনো দেখেনি আগে।


